ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞায় এয়ার ফ্রান্সের পাইলট ও ক্রুদের ওপর কড়াকড়ি

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২৬

ইসরাইলের সাথে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন ৩১টি দেশের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এয়ার ফ্রান্স। ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইসরাইলের পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তেল আবিবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের নাগরিক অথবা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো কর্মী ইসরাইলি আকাশসীমায় প্রবেশ কিংবা সেখানে অবতরণ করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, ব্রুনাই, কলম্বিয়া, কোমোরোস, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইরান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মৌরিতানিয়া, নিকারাগুয়া, নাইজার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেন রয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর মতো যেসকল মুসলিম বা আরব দেশ ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, তাদের কর্মীদের ওপর এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য নয়।

মিডিয়াপার্ট এয়ার ফ্রান্সের একটি অভ্যন্তরীণ নোটের বরাতে জানায়, কর্তৃপক্ষ তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আর ইসরাইলের ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এছাড়া সব কর্মীকে তাদের দ্বিতীয় জাতীয়তা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ১লা অক্টোবর ইসরাইলের পরিবহন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা জারি করে। এর প্রেক্ষাপট হিসেবে ৩০শে সেপ্টেম্বর দুবাই-তেল আবিব রুটের ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার একটি কথিত চেষ্টার ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই ইসরাইল বিমান চলাচল খাতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইসরাইলের চ্যানেল ১৩-এর তথ্যমতে, দেশটির অন্তত একটি বিমান সংস্থা তাদের প্রায় আড়াই হাজার পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত বৃত্তান্ত যাচাই করছে।

এদিকে জাতীয়তাভিত্তিক এই বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের কারণে এয়ার ফ্রান্স ফ্রান্সে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। দেশটির অধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদরা দাবি করছেন, এটি ফরাসি শ্রম আইন ও বৈষম্যবিরোধী নীতিমালার পরিপন্থী, যা প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিয়ে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা ফ্লাইট গন্তব্যের নির্ধারিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত নিয়ম মানতে বাধ্য।