গার্লস বা বয়েজ স্কুলে চাকরিতে জামায়াতের বিধিনিষেধ, নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশিত: 10:01 AM, July 22, 2026 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও নির্বাহী বৈঠকে নেওয়া একটি নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে দলটির অভ্যন্তরে তীব্র টানাপড়েন ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামির দাবি অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তটি দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২২ জুন ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ জুলাই দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা ও মহানগরী আমিরদের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, গার্লস স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসাসহ যেকোনো গার্লস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো পুরুষ জামায়াতের সদস্য (রুকন) হতে পারবেন না। একইভাবে, বয়েজ স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় কর্মরত কোনো নারী সদস্যও দলটির সদস্যপদ বা রুকনিয়াত ধরে রাখতে পারবেন না। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে যারা এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তাদের সদস্যপদ আপাতত স্থগিত বা মুলতবি থাকবে। পরবর্তীতে তারা কর্মস্থল পরিবর্তন করলে সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে। তবে সহশিক্ষা বা কো-এডুকেশন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মধ্যম সারির জামায়াত নেতা এই সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক’ ও ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, দেশজুড়ে জামায়াতের হাজারো নেতা-কর্মী শিক্ষকতার মতো পেশায় যুক্ত আছেন। দলীয় আদর্শ মানতে গিয়ে হঠাৎ জীবিকার পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা তাদের জন্য চরম সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক জেলা শহরে কর্মীদের ‘চাকরি ছাড়ুন, নাহয় দল ছাড়ুন’—এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দল একদিকে নারী জাগরণের কথা বললেও এই সিদ্ধান্তটি দ্বিমুখী। তারা দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, জুলকারনাইন সায়ের সামি চিঠিটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন শীর্ষ নেতা চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। SHARES রাজনীতি বিষয়: জামায়াতে ইসলামীনিষেধাজ্ঞারাজনীতিশিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসদস্যপদ