গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে দেশ ছাড়লেন মেয়র খোকন আব্দুল্লাহ প্রকাশিত: 5:10 PM, July 22, 2026 বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে তিনি ১৬ কোটি টাকা গাড়িভর্তি করে নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন। এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার ছেলের কাছে পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে শুনেছি যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি।’ ওই রাত ৩টার দিকে একটি বিশেষ বাহিনীর দুটি গাড়ির নিরাপত্তায় তিনি ও তার স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহ বরিশাল ত্যাগ করেন। পথে তিনি খুলনায় তার শ্যালক মিঠুর বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত খুলনার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বাসায় আত্মগোপন করেন। খুলনায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন খোকন। তার তৎকালীন এপিএস রুবেল এবং বিসিসির প্রকৌশল ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা এই কাজে সহায়তা করেন। অভিযোগ রয়েছে, চেক সইয়ের বিনিময়ে তিনি বিলের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ টাকা কমিশন হিসেবে নেন। যুক্তরাষ্ট্রে টাকা নিতে হলে যেহেতু অর্থের উৎস জানাতে হয়, তাই সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে সেখানে টাকা পাঠাতেন খোকন। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ এভাবেই পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য করে আয় করা অর্থও পাচার হয়েছে সেখানে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারত হয়ে তিনি কলকাতায় পৌঁছান। সেখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। গাড়ি ও ড্রাইভার তার বাসাতেই থাকত। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে টেক্সাসে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও পেট্রোল পাম্প ব্যবসার আড়ালে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন। এছাড়া ট্রাম্প সরকারের গোল্ডেন ভিসার সুযোগ নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তার ব্যবহৃত সব নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে এবং দলের কারো সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। SHARES অন্যান্য বিষয়: অর্থ পাচারআওয়ামী লীগবরিশাল সিটি করপোরেশনশেখ হাসিনাসেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহ