দল থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ধোঁয়াশা প্রকাশিত: 10:28 AM, July 23, 2026 ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় দল তাকে বহিষ্কারের পাশাপাশি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির এবং সংসদের একটি সূত্রের মতে, দল থেকে বহিষ্কারের ফলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। অন্যদিকে, সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল দল থেকে বহিষ্কারের কারণে কারো এমপি পদ যাওয়ার সুযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানও একই মত দিয়ে জানিয়েছেন, যেহেতু তিনি দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি এবং কোনো ফৌজদারি মামলায় দুই বছরের বেশি দণ্ডিত হননি, তাই আইনগতভাবে তার সদস্যপদ শূন্য করার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি কোনো উপযুক্ত আদালত তাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন, তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর যদি দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করেন, তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করেন। নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে এখনো কোনো চিঠি আসেনি। তিনি বলেন, সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ থেকে চিঠি আসলে ইসি আইনি দিকগুলো যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সরাসরি ইসি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। অতীতে হাজী সেলিম, কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, ডা. মুরাদ হাসান এবং লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কার বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পরও সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার নজির রয়েছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন যে ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ই জুন তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে এই বিয়ের প্রক্রিয়া, তারিখ এবং কাবিননামা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা অসঙ্গতি। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পৃথক ভিডিও বার্তায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ জানান, পারিবারিকভাবেই ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে। কাবিননামা প্রস্তুতকারী কাজী মাওলানা বিএম বাকী বিল্লাহ স্বীকার করেছেন যে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরদিন ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি কাবিননামা তৈরি করেন এবং এমপি ও তার পরিবারের সদস্যরা তাতে স্বাক্ষর করেন। ইতিমধ্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এলাকাবাসী তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২২শে জুলাই অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। SHARES অন্যান্য বিষয়: আইনি বিতর্কগাজী নজরুল ইসলামজামায়াতে ইসলামীসংসদ সদস্যসাতক্ষীরা-৪