ইমাম হোসাইন (রা.) ও ইসলামি নেতৃত্বের ঐতিহাসিক তাৎপর্য

প্রকাশিত: 7:37 PM, July 23, 2026

ইমাম হোসাইন (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় নাতি। নবীজির ইন্তেকালের মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে এক অসম যুদ্ধে নানাজানের উম্মতের লোকদের হাতেই তিনি নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে শাহাদত বরণ করেন। এই বিয়োগান্ত হত্যাকাণ্ডের শোক যুগ থেকে যুগান্তরে মুসলিম উম্মাহকে ব্যথিত করে আসছে। বাংলা সাহিত্যের বিশাল অঙ্গনজুড়েও এই শোকের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। নজরুল কাব্যে কারবালার ট্র্যাজেডি যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি মীর মশররফ হোসেনের 'বিষাদ সিন্ধু' প্রতি বছর মহররমে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় সেই শোকের আবহ।

১০ মুহাররম আমাদের জাতীয় ছুটির দিন এবং দেশজুড়ে এই দিবসটি নানাভাবে পালিত হয়। বিভিন্ন সময় জাতীয় নেতারা তাদের বাণীতে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম হোসাইন সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন এবং অসত্যের সামনে মাথা নত করেননি। ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতের নজরানা পেশ করেছিলেন। মওলানা মুহাম্মদ আলি জরহরের সেই বিখ্যাত উর্দু কবিতার পঙ্ক্তি—'ইসলাম জিন্দা হোতা হে হার কারবালা কে বাদ'—অর্থাৎ প্রতিটি কারবালার পরেই ইসলাম নতুন প্রাণ ফিরে পায়, এটিই ইতিহাসের শিক্ষা। ইসলামের ইতিহাসে প্রতিটি বিপর্যয়ের পরেই মুসলমানরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন শক্তি সঞ্চার করেছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ইমাম হোসাইন কোন ধরনের ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সপরিবারে শহিদ হয়েছিলেন? সে সময় নামাজ, রোজা ও হজের মতো ইবাদতগুলো যথানিয়মে পালিত হতো। মক্কা, মদিনা, কুফা কিংবা দামেস্কে প্রচলিত ইসলামের বিরুদ্ধে তখন বড় কোনো সংকট ছিল না। এরপরও তাকে মদিনা ছেড়ে মক্কায় এবং সবশেষে কারবালায় যেতে হয়েছিল। তার দ্বিখণ্ডিত মাথা মোবারক কেন ইবনে জিয়াদের সামনে এবং এজিদের দরবারে অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা নিয়ে গভীর চিন্তার অবকাশ রয়েছে।

ইমাম হোসাইন (রা.) কেবল নিজের শাহাদত নয়, বরং ইসলাম, ইসলামি রাষ্ট্র, খেলাফত এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন। তিনি এমন এক বিপদের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছিলেন যা অন্যরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তার মূল উৎকণ্ঠা ছিল খেলাফতের মতো সর্বোচ্চ আসন ও জাতীয় নেতৃত্ব যখন এমন কোনো পাপাচারী, অযোগ্য বা স্বৈরাচারীর হাতে ন্যস্ত হয়, যারা আল্লাহ ও রাসুলের নির্ধারিত হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল গণ্য করার ব্যাপারে বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তখন উম্মাহর অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং দ্বীন ইসলামকে জীবিত রাখার জন্যই তিনি সেই চরম ত্যাগের পথ বেছে নিয়েছিলেন।