বন্যার ক্ষত শুকায়নি পেকুয়ায়, মানবেতর জীবন ৫০০ পরিবারের

প্রকাশিত: 5:00 PM, July 28, 2026

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কয়েক দিন পার হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না কয়েক হাজার পরিবার। উপজেলার গোঁয়াখালী, বাংলাপাড়া, বাইম্যাখালী, হরিণাফাঁড়ি ও বটতলীয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখনো কাদা, ভাঙা ঘর আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করছেন। বিশেষ করে পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব বিলাচূড়া এলাকার চিত্রটি অত্যন্ত করুণ। সেখানে ১৮ মাস বয়সী যমজ সন্তানদের নিয়ে রোকসানা বেগম নামের এক নারী কাদা লেপে ঘর বসবাসের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। অসুস্থ স্বামী ও সীমিত আয়ের এই পরিবারটি বন্যায় তাদের একমাত্র সম্বল বেড়ার ঘরটি হারিয়ে দিশেহারা। রোকসানা জানান, কাদার মধ্যে বসবাসের কারণে তার সন্তানরা নিয়মিত জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

একই রকম পরিস্থিতির শিকার মইয়াদিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের পরিবার। বন্যায় ঘরের চাল পর্যন্ত পানি উঠে আসায় আসবাবপত্র ও সন্তানদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। জসিম উদ্দিনের স্ত্রী আজবাহার বেগম জানান, ধারদেনা করে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার ধকল কাটতে না কাটতেই এই বন্যা তাদের একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রমতে, পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের ফলে বিলাচূড়া, ছিরাদিয়া ও মইয়াদিয়া এলাকায় প্রায় ৩৬৫টি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মানিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ভাঙা ঘর মেরামতে হিমশিম খাচ্ছে। কোথাও বাঁশের খুঁটি দিয়ে, আবার কোথাও নতুন বেড়া দিয়ে কোনোমতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসে কক্সবাজারের মধ্যে পেকুয়া উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যাতে প্রায় দুই হাজার বসতঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ জানান, বন্যায় ২৫১টি আধপাকা ঘর, ৫০০টি কাঁচাঘর সম্পূর্ণ এবং এক হাজার ২৪৯টি কাঁচাঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সরকারি সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।