ভৈরবে বাজারের নাম নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২

প্রকাশিত: 10:30 PM, July 27, 2026

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুইজনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ হিরণ মিয়া (২৮) নামে এক যুবক মারা গেছেন, যিনি মিরারচর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে। সংঘর্ষের সময় বল্লমের আঘাতে গুরুতর আহত হিরণকে ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে সকালে একই ঘটনায় মাসুদ মিয়া (৩০) নামের এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছিল।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব সদস্যরা কাজ করছেন। বর্তমানে পুলিশের শতাধিক সদস্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

সংঘর্ষের জেরে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, মিরারচর ও আকবরনগর গ্রামের মধ্য দিয়ে রেলপথটি যাওয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়। এতে জামালপুর থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর বিজয় এক্সপ্রেস কুলিয়ারচরে এবং ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস ভৈরব স্টেশনে আটকা পড়ে। পরে পুলিশ লাইন ক্লিয়ার করলে বেলা সাড়ে তিনটায় পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সংঘর্ষস্থলের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড ও বাজারের অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জানান, ১৯৯১ সাল থেকে গড়ে ওঠা এই বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে ‘আকবরনগর-মিরারচর বাজার’ নামে পরিচিত ছিল। সরকারি নথিতে কোনো নির্দিষ্ট নাম না থাকলেও ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ একটি সাইনবোর্ডে বাজারের নাম শুধু ‘আকবরনগর বাজার’ উল্লেখ করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর আগেও একই কারণে সাইনবোর্ড ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।.এদিকে সংঘর্ষের প্রভাবে সকাল ১০টা থেকে ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ওই বছরের ৯ জুলাই মিরারচর গ্রামের কিছু লোক সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন।