গণভোটের রায় মানতে বিএনপি বাধ্য হবে: জামায়াত নেতা হেলাল উদ্দিন

প্রকাশিত: 10:09 PM, July 28, 2026

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ছাত্র-জনতা যদি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে, তবে বিএনপি গণভোটের রায় মেনে নিতে বাধ্য হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করার অর্থ হলো জুলাই বিপ্লবকে সরাসরি অস্বীকার করা। শহীদদের রক্তের ওপর ভর দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি তাদের রক্তের সাথে বেঈমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের পল্টন থানার উদ্যোগে আয়োজিত ‘র রক্তাক্ত ৩৬ জুলাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সংসদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে জনগণের এই রায়কে উপেক্ষা করছে। তারা সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে নিজেদের পছন্দসই লোক দিয়ে কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধন করতে চাচ্ছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত নেতা বলেন, আন্দোলনের দিনগুলোতে আজকের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা দেশেই ছিলেন না। কেউ লন্ডনে আবার কেউ শিলংয়ে অবস্থান করছিলেন। আন্দোলনের মাঠের পরিস্থিতি না দেখার কারণে তারা জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করতে পারছেন না। রক্তাক্ত সেই দিনগুলো স্বচক্ষে দেখলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা গণভোটের রায়কে এভাবে উপেক্ষা করতে পারতেন না। তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার ও নির্বাচন। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বিএনপি কেবল ক্ষমতার জন্য নির্বাচনের দাবি তুললেও রাষ্ট্র সংস্কার বা ন্যায়বিচারের কোনো দাবি এখন পর্যন্ত উত্থাপন করেনি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, শুধু ৩৬ জুলাই নয়, আওয়ামী লীগের প্রতিটি দিনের শাসনই ছিল গণহত্যার শামিল। খুন, গুম, জুলুম, বিরোধী দল দমন, ব্যাংক দখল করে বিদেশে অর্থ পাচার, উন্নয়নের নামে দুর্নীতি এবং প্রশাসনের দলীয়করণসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। এই কারণে আওয়ামী লীগের আমলের প্রতিটি দিনের অপরাধের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, কেবল ব্যক্তিবিশেষ নয়, দল হিসেবেও আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। তাই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

পল্টন থানার আমির অ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পল্টন থানার সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম।