একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য জরুরি অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বাড়ল

প্রকাশিত: 11:41 PM, July 29, 2026

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৯ জুলাই বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহকরা এখন থেকে শুধু নিজের চিকিৎসার জন্য নয়, বরং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারবেন।

এর আগে বিশেষ স্কিমের আওতায় গ্রাহকরা কেবল নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পেতেন। সংশোধিত নীতিমালায় সেই সুযোগের পরিধি বাড়িয়ে বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোনের চিকিৎসার পাশাপাশি পারিবারিক বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, মেয়ের বিয়ে বা পরিবারের সদস্যদের আকস্মিক অসুস্থতার মতো জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এই নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চালু থাকা বিশেষ স্কিমে পরিবর্তন এনে পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। গত বছর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হিসেবে প্রদান করেছে এবং অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের অভিযোগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এক্সিম ব্যাংক ছিল সাবেক বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। এসব অনিয়মের কারণে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছিল।