হবিগঞ্জে এনসিপি বহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: 10:02 PM, July 29, 2026

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় এনসিপির শীর্ষ নেতারা পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন এবং নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা অবস্থান ও বাগবিতণ্ডার পর রাত ৮টার দিকে তারা কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) তারেক মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে ছিলেন। এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, মামলার এজাহার জমা দিয়ে তারা পুনরায় মৌলভীবাজারে ফিরে যাবেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। দলটির পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করা হয়েছে। হামলায় সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার সময় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জ শহরের একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

এদিকে, এনসিপি ও বিএনপি-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় উত্তজনা বিরাজ করায় প্রশাসন বুধবার সকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শহরজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজারের কর্মসূচি স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।