চাঁদা না পেয়ে মারধর: চরফ্যাশন বিএনপি নেতা কারাগারে

প্রকাশিত: 8:00 PM, July 29, 2026

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, বসতঘরে তালা দেওয়া ও মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার সকালে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শরীফ এ এম রেজা জাকের এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. ছালাম বাদী হয়ে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে এবং অপর দুই আসামি হলেন তার দুই ছেলে মো. আরাফাত হোসেন মালতিয়া ও ফাহাদ হোসেন মালতিয়া।

বাদীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে পৈতৃক ভিটায় ঘর তৈরি করে ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে দধির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু সরকার পতনের পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএনপি নেতা আলমগীর মালতিয়া ওই বসতভিটার মালিকানা দাবি করে তাকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তিনি ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে ওই ঘরে তালা লাগিয়ে দেন এবং বাদীকে মারধর করেন। এই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. ছালাম আদালতে মামলাটি করেন। এরপর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন। বুধবার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক প্রধান আসামি আলমগীর মালতিয়ার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী মো. ছালাম বলেন, 'আদালতে আজকে আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি, আসামি জামিন পাননি। আসামিরা আমার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আমার বসতঘরে তালা দিয়ে আমাকে মারধর করেছে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে দেননি, থানায় মামলা করতেও দেননি। পরে আমি আদালতে মামলা করেছি।'

ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. নাসীর উদ্দিন জানান, জজ আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।