পোলাও চালের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি ও বাজারে ভেজালের দৌরাত্ম্য

প্রকাশিত: 10:30 AM, July 29, 2026

দেশের বাজারে পোলাও চালের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও গত তিন মাসে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা। এর মধ্যে কেবল গত এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তার দাম ১০ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা কয়েক মাস আগেও ছিল ছয় হাজার টাকা। রাজধানীর বাবুবাজার, নয়াবাজার, বাদামতলী ও কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।

দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সুগন্ধি চালের বাজারে ভেজাল ও জালিয়াতির অভিযোগও প্রকট হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কাটারি আতপ ও কম দামের চালের সঙ্গে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে চিনিগুঁড়া বা কালিজিরা চাল হিসেবে বাজারজাত করছে। কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ আতপ চালে বাসমতি ফ্লেভার মিশিয়ে নামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছে। নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দিন জানান, মূলত ব্রি ধান-৩৪ জাতের চালেই প্রাকৃতিকভাবে সুগন্ধ থাকে, অন্য কোনো ফ্লেভারের প্রয়োজন হয় না।

খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ, মিল মালিক ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়িয়েছে। তেজগাঁওয়ের চাঁদপুর রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়া জানান, মিলগেটেই মানভেদে প্রতি কেজি চাল এখন ২০০ থেকে ২০৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যেখানে জুন মাসে এই দাম ছিল ১৫৬ থেকে ১৬৩ টাকা। তার দাবি, দেশের চালের বাজার হাতেগোনা ১০-১২টি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে, যারা ধান মজুত করে দাম বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন। তিনি জানান, সুগন্ধি ধানের উৎপাদন হ্রাস, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের চাহিদা বাড়ার কারণেই দাম বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল করতে তিনি সাময়িকভাবে পোলাও চাল রপ্তানি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য বাজার তদারকির দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের কর-শুল্ক কমানোর সুবিধা সাধারণ ভোক্তারা পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পুরান ঢাকা ও যশোরে নকল মোড়কে চাল বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার জানিয়েছেন, কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।