২০২৬ বিশ্বকাপ: ফুটবলের উৎসব শেষে পরিবেশের হিসাব

প্রকাশিত: 7:31 PM, July 30, 2026

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ এবং তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্পেন ট্রফি জিতলেও এই আসরটি পরিবেশবিদদের সামনে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের কার্বন নিঃসরণ ৪ দশমিক ২ থেকে ৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য, যা একটি ছোট দেশের বার্ষিক নিঃসরণের সমান। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কার্বন-নিবিড় এই আসরে দূষণের প্রধান উৎস ছিল বিমানভ্রমণ। দল, কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ও দর্শকদের হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেওয়ার ফলে এই বিপুল নিঃসরণ ঘটেছে, এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনঘন বিমানভ্রমণও সমালোচিত হয়েছে।

বিশ্বকাপ এখন কেবল খেলার মাঠ নয়, বরং ফ্যাশন ও বিপণনের বিশাল মঞ্চ। কোটি কোটি নতুন জার্সি ও ফ্যান মার্চেন্ডাইজ বিক্রির ফলে তৈরি হওয়া ভোক্তা অর্থনীতি পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও বড় ব্র্যান্ডগুলো পুনর্ব্যবহৃত পলিয়েস্টার বা প্লাস্টিক ব্যবহারের দাবি করেছে, তবে সস্তা ও অনানুষ্ঠানিক পণ্যের ব্যবহার এই প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে। ইতিবাচক দিক হলো, ভিনটেজ ও রিসেল জার্সির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যা সার্কুলার ফ্যাশনের একটি অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমান ম্যাচ ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের কারণে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ম্যাচের সময় নির্ধারণে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়েছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচিও (ইউএনইপি) নিশ্চিত করেছে যে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি আউটডোর খেলাধুলাকে প্রভাবিত করছে। ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রভাবও কম নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, লাইভ স্ট্রিমিং ও ডেটা সেন্টারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল কার্বন ফুটপ্রিন্টও দ্রুত বাড়ছে, যা স্টেডিয়ামের আলোর চেয়েও অদৃশ্য কিন্তু বিশাল প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য এই বিতর্ক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্কুলার অর্থনীতি ও টেকসই ফ্যাশনের নতুন নীতিগুলো অনুসরণ করে আমাদের কারখানাগুলোকে এখন পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফাইবার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু কম খরচে উৎপাদন নয়, টেকসই উৎপাদনই হবে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার মূলমন্ত্র। ফিফা ২০৩০ সালের মধ্যে নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, আগামীতে বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনগুলো কতটা সবুজ হবে, তা নির্ভর করবে মাঠের বাইরের সিদ্ধান্ত ও ভোগের অভ্যাসের ওপর।