এপস্টেইনকে পর্নো ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন অ্যানথ্রপিক সিইওর স্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইয়ের স্ত্রী উদ্যোক্তা ক্যামি ক্লার্কের অতীত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেফ্রি এপস্টেইনের ফাইল থেকে পাওয়া ই-মেইলে দেখা গেছে, ক্লার্ক ২০১১ ও ২০১২ সালে দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাছে তার কয়েকটি ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। এসব উদ্যোগের মধ্যে ছিল তার নিজের ভাষায় ‘ফ্রি লাক্সারি পর্নো’ কোম্পানি এবং নারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি স্টার্টআপ। তবে ফাইলগুলোতে এমন কোনো তথ্য নেই যে এপস্টেইন শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবসাগুলোর কোনো একটিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

২০১১ সালের মার্চে সাহিত্য বিষয়ক এজেন্ট জন ব্রকম্যানের মাধ্যমে ক্লার্কের সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় হয়। ব্রকম্যান এপস্টেইনকে একটি ই-মেইলে জানান, ক্লার্ক ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার মিশেল ক্যাপোসেফালো তার সঙ্গে দেখা করতে চান। পরিচয়ের জবাবে ক্লার্ক লিখেছিলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় আপনার সঙ্গে ডিনারে যেতে আমরা খুবই আগ্রহী।’ পরদিন তিনি এপস্টেইনকে তার কোম্পানির অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। ২০১১ সালের মার্চে প্রথম সাক্ষাতের কয়েক দিন পর ক্লার্ক এপস্টেইনকে তার কোম্পানির প্রথম কয়েকটি চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ও ট্রিটমেন্ট পাঠান। তিনি জানান, এপস্টেইন ও তার পরিচিত নারীরা হয়তো এগুলো উপভোগ করবেন।

২০১২ সালের মার্চে তাদের যোগাযোগ আরও স্পষ্ট ব্যবসায়িক রূপ নেয়। ক্লার্ক এপস্টেইনকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি তার ও এক সহকর্মীর তৈরি করা কয়েকটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করার কথা বিবেচনা করবেন। এই যোগাযোগের সময়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এর কয়েক বছর আগেই ২০০৮ সালে এপস্টেইন পতিতাবৃত্তির জন্য লোক সংগ্রহের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত হন। ২০১২ সালের মার্চে ক্লার্ক ও এপস্টেইনের কথোপকথনটি ফাইলগুলোতে পাওয়া তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ যোগাযোগ।

ফাইল অনুযায়ী, ক্লার্ক যোগাযোগ করলে এপস্টেইন প্রথমে উত্তর দেন, ‘দুঃখিত, আপনি কে?’ ক্লার্ক তাকে মনে করিয়ে দেন যে তিনি সেই ‘ফ্রি লাক্সারি পর্নো কোম্পানি’ পরিচালনা করেন এবং জানতে চান বিষয়টি তার মনে পড়ছে কি না। এপস্টেইন উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, জোরালোভাবে মনে পড়ছে।’ এরপর ক্লার্ক নিউইয়র্কে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করতে চান। এপস্টেইন তখন ক্যারিবীয় অঞ্চলে ছিলেন। তবে তিনি জানান, ক্লার্ক যেসব ব্যবসাকে সম্ভাবনাময় মনে করেন, সেগুলো তিনি দেখতে আগ্রহী। এপস্টেইন ক্লার্কের পর্নো কোম্পানির পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লার্ক জানান, তারা ‘পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে’ এবং কোম্পানির ভিডিও ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। এপস্টেইন জবাব দেন, ‘টিভিতে যৌন কনটেন্ট করা যাবে না।’ ক্লার্ক উত্তর দেন, ‘আমি তা ভাবিনি :)’

ক্লার্ক তার সোশ্যাল ডায়েটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের কথাও এপস্টেইনকে জানান। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সেবা স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ডিভাইস থেকে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোকে ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করত। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে এপস্টেইন আদৌ পরে কোনো জবাব দিয়েছিলেন কি না, ফাইলগুলো থেকে তা স্পষ্ট নয়। এপস্টেইনের ফাইলের অন্য ই-মেইলগুলোতে দেখা যায়, ক্লার্ক পরবর্তী সময়েও তাকে নিজের ই-মেইল তালিকায় রেখেছিলেন। ২০১২ সালের জুলাইয়ে তিনি এপস্টেইনকে নিজের নতুন বাড়িতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। ২০১৩ সালে এপস্টেইন লিঙ্কডইনে ক্লার্কের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে ফাইলগুলোতে ২০১২ সালের পর ক্লার্ক ও এপস্টেইনের আবার সরাসরি দেখা হয়েছিল-এমন কোনো তথ্য নেই।

ক্যামি ক্লার্ক ২০২২ সালে আমোদেইকে বিয়ে করেন। এর আগে তিনি গুগলের সাবেক প্রধান এরিক শ্মিটের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। দ্য জার্নাল ক্লার্ককে আমোদেই ও অ্যানথ্রপিকের একজন ‘সাউন্ডিং বোর্ড ও কৌশলগত পরামর্শদাতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আমোদেইকে বিয়ের আগে ক্লার্ক বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ছাড়া ক্লার্ক সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব বেশি তথ্য নেই। জার্নাল উল্লেখ করেছে, অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব এআই মডেল ক্লদও আমোদেই বিবাহিত কি না- এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। দ্য জার্নাল আরও জানিয়েছে, একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ক্লার্ক সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য সরিয়ে ফেলার জন্য সচেতনভাবে কিছু ‘প্রচেষ্টা’ চালানো হয়েছিল।

ফোর্বস-এর হিসাবে, দারিও আমোদেইয়ের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৫৫০ কোটি ডলার। এই হিসাবে তিনি ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানের আনুমানিক ৩৪০ কোটি ডলারের সম্পদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে গ্রোকের প্রধান ইলন মাস্কের আনুমানিক ৮৬৩২ কোটি ডলার সম্পদের তুলনায় তিনি অনেক পিছিয়ে। ক্যামি ক্লার্ককে ঘিরে নতুন করে আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন অ্যানথ্রপিক চলতি শরতেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য আইপিওতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন ২ ট্রিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। এদিকে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক বা যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের নিয়েও নতুন করে তদন্ত ও যাচাই শুরু হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যও ডাকা হয়েছে। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ বা পরিচয় থাকা অনেক উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তির বিরুদ্ধেই কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ নেই- শুধু এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।