ব্যাংকিং খাতে ডলারের দর কমলেও খোলা বাজারে চড়া দাম প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬ রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং আমদানি ব্যয় নিম্নমুখী প্রবণতা থাকায় দেশের ব্যাংকিং খাতে ডলারের দাম কমছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ৬১ পয়সা বা ০.৫০ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। এদিন বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৪১ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সা। এর বিপরীতে গত ৬ই আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা, যেখানে সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা। ডলারের দাম কমার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, এটি একটি ইতিবাচক দিক। গত কয়েক দিনে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশের মতো এবং আগস্টের প্রথম ১২ দিনেই দেশে দেড় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া জ্বালানি তেল ও সারসহ সরকারি অন্যান্য কেনাকাটার পেমেন্ট কম হওয়ায় ডলারের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যা দাম কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে। ব্যাংকাররা জানান, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত ডলারের মজুদ রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো উচ্চ দরে রেমিট্যান্স কিনছে না এবং ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোকে কম দামে এলসি নিষ্পত্তির অফার দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো তাদের কাছে থাকা ডলার দ্রুত বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে। গত তিন দিনে নিষ্পত্তির দরও কমিয়ে আনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা আরও কমতে পারে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাজারে ডলারের দর চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো এবং চাহিদা কম থাকায় ডলারের দর কমাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ থেকে ১২ই আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই ১২ দিনে প্রবাসীরা ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ৪২.২০ শতাংশ বেশি। মাসের বাকি ১৯ দিনে এই হারে রেমিট্যান্স এলে মাস শেষে তা প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ হবে। এখন পর্যন্ত এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে গত মার্চে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের আগস্টের প্রথম ১২ দিনে এসেছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে ১লা জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ মাস ১২ দিনে দেশে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩.৪ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিন ৩০শে জুন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা এবং এক বছর আগে ২০২৫ সালের ৬ই আগস্ট ছিল ১২১ টাকা ৯৪ পয়সা। তবে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে দাম কমলেও খোলা বাজারে বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম এখনো চড়া। বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ডলার ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে এবং কেনা হয়েছে ১২৭ টাকা দরে। মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেশি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে কার্ব মার্কেটকে মেলানো উচিত নয়, কারণ খোলা বাজারে দর ব্যবসায়ীরা নিজেরাই নির্ধারণ করেন। সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক ১২৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে এবং ১২৩ টাকায় কিনেছে। এছাড়া বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৯০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে এবং ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে কিনেছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: অর্থনীতিডলারবাংলাদেশ-ব্যাংকমুদ্রাবাজাররেমিট্যান্স