ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা সংকট এড়াতে পুতিনের নতুন নিয়োগ কৌশল

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় রাশিয়ায় তীব্র সেনা সংকট দেখা দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার রুশ সেনা হতাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো বাধ্যতামূলক সৈন্য সমাবেশ করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা এড়াতে পুতিনের ক্রেমলিন মরিয়া হয়ে নানা কৌশল গ্রহণ করেছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার তিন লাখ রিজার্ভ সেনা তলবের মতো রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে চায় না মস্কো। সেই পরিবর্তে তারা এখন নতুন সেনা নিয়োগে উচ্চ বেতন, মোটা অঙ্কের বোনাস এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এমনকি দরিদ্র অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের একাধিক বছরের বেতনের সমান অর্থ এককালীন দেওয়ার মাধ্যমে বাহিনীতে টানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কারাগারের দাগী বন্দি এবং শিক্ষার্থীদেরও ড্রোন ইউনিটে যুক্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়েও প্রশাসনকে চাপে রাখা হয়েছে। রুশ অঞ্চলের গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দিষ্ট কোটা পূরণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি নতুন সেনা নিয়োগে সহায়তা করলে মধ্যস্থতাকারীদেরও মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিয়ে পর্যাপ্ত লোক না পাওয়ায় কিছু এলাকায় জোরজবরদস্তি, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চুক্তিতে সই করানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে এই চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

যদিও মস্কো প্রতিদিন প্রায় এক হাজার নতুন সেনা যুক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে, তবে তা মূলত রণক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো পূরণ করতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে রুশ বাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। রুশ কর্মকর্তারা নতুন সৈন্য সমাবেশের খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান নিয়োগ পদ্ধতিতে ঘাটতি না মিটলে পুতিন প্রশাসনকে শেষ পর্যন্ত আবারও নতুন করে সৈন্য সমাবেশের ঝুঁকি নিতেই হতে পারে।