ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির হাত ধরে ৭৫ লাখ কর্মসংস্থানের উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬

গ্রামভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে আধুনিক নকশা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শীতলপাটি, শতরঞ্জি, তাঁত, মৃৎশিল্প ও বুনন শিল্পকে নিয়ে ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে প্রতিটি গ্রামের একটি করে সম্ভাবনাময় পণ্যকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গ্রাম পর্যায়ে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

এই কর্মসংস্থান কেবল পণ্য উৎপাদনকারী কারিগরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। উৎপাদন পর্যায়ে তাঁতি, কৃষক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী ও কারুশিল্পীদের পাশাপাশি প্যাকেজিং, মান নিয়ন্ত্রণ, ডিজাইন, পরিবহণ এবং বিপণন খাতেও ব্যাপক জনবলের প্রয়োজন হবে। এছাড়া গ্রামীণ পর্যটন ও প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলোকেও কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো সরাসরি ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সৃজনশীল শিল্পের অবদান জিডিপিতে ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পূর্বাচলে ১৬০ একর জমিতে একটি সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব গড়ে তোলা হবে, যা পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক জেলায় রূপান্তরিত হবে। এছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আঞ্চলিক হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে ‘ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স’, যার নেতৃত্বে থাকবেন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল। এই পুল স্থানীয় কারুশিল্পীদের সঙ্গে পেশাদার ডিজাইনারদের সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি কার্যকর নীতি ও টেকসই ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুধু অবকাঠামো দিয়ে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি সফল হবে না, এর জন্য প্রয়োজন নীতিগত সংস্কার, কপিরাইট সুরক্ষা ও ইকো-সিস্টেম তৈরি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাজারের চাহিদা বিশ্লেষণ করে কোন এলাকায় কোন ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে, তার ওপর ইতোমধ্যে কাজ করা হয়েছে এবং ব্র্যাক এ বিষয়ে ৩৩-৩৪টি ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা করেছে।