গণতান্ত্রিক আদর্শ ও তৃণমূলের সংযোগে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২৬ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো 'গণতন্ত্র', যা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনারও অবিচ্ছেদ্য অংশ। দলের গঠনতন্ত্রের '২(ঘ)' বিধি অনুযায়ী, একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে দলটি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে আওয়ামী লীগের আন্দোলন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণভাবে সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজিরও বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র তাদেরই ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। দলটিকে তার মূল আদর্শ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার ফলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে 'অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য' হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনি রায় ব্যতীত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন উঠেছে, সেই সময়ে দলটি 'পূর্ণমাত্রায় প্রয়োজনীয় দূরদর্শিতা' দেখাতে পেরেছিল কি না, তা নিয়ে। আওয়ামী লীগ কোনো আদর্শ বিবর্জিত দল কিংবা জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী নয়, বরং এদেশের গণমানুষের দল। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তৃণমূলের মতামতকে 'সুকৌশলে' অবজ্ঞা করা হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কোনো পর্যায়ে আলোচনা, যুক্তি, বিতর্ক কিংবা মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে অবহেলা করার খেসারত আজ দলকে দিতে হচ্ছে কি না, সেই বিষয়টিও এখন ভাববার অবকাশ রয়েছে। আদর্শের প্রতি বলিষ্ঠতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে যেকোনো রাজনৈতিক দলই ধীরে ধীরে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাই অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতান্ত্রিক আদর্শে অটল থেকে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়াই এখন দলের জন্য সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ। আগামী নভেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের জন্য উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ হবে জনগণকে আরো কাছে টানার এবং জনগণের সাথে মরচে ধরা সম্পর্ককে টেকসই রাজনৈতিক সম্পর্কে রূপান্তরিত করার এক সুবর্ণ সুযোগ। অতীতে নানা সংকটে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই যেমন পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে, এবারও তাদের মাধ্যমেই দলটি পুনরায় আদর্শিক রাজনীতির চূড়ান্ত ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আওয়ামী লীগ 'আদর্শ বিবর্জিত' কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা জনবিচ্ছিন্ন কোনো 'গোষ্ঠী' নয়। আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের দল। এই দলে দীর্ঘ সময় ধরে (বিশেষত ২০১১-২০২৪ সময়ে) সকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তৃণমূলের মতামতকে 'সুকৌশলে' অবজ্ঞা করা হয়েছে কিনা, সেটা ভাববার অবকাশ আছে বৈকি! কিংবা কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের আলোচনা, যুক্তি, বিতর্ক, মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে অবহেলা করার খেসারত আজ দলকে দিতে হচ্ছে কিনা? অথবা তৃণমূলের ভাবনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়াটা কি আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক আদর্শ হতে বিচ্যুত করেছিল কিনা, তা-ও পর্যালোচনার দাবি রাখে! SHARES রাজনীতি বিষয়: আওয়ামী লীগগণতন্ত্রতৃণমূলনির্বাচনরাজনীতি