ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণে আর কতদিন লাগবে, সংসদে প্রশ্ন প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৬ ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। রোববার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের আলোচনায় তিনি জানতে চান, এই প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের আর কত সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া একদিন বা সাত দিনে সম্পন্ন করতে পারে, তবে বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন এটি সহজ করা যায়নি। সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের অভিযোগ, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ গলা চিপে ধরে বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া সহজ করা হলে শিক্ষিত বেকার যুবকসহ সাধারণ মানুষ কাজের সুযোগ পাবেন। এমনকি যাদের চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে, তারাও এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রিসভার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত এই প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যার দিকে সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে। জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জানান, বিষয়টি জনগণের স্বার্থে সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়াটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণ করা হচ্ছে এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এই আইন ও বিধি প্রণয়ন করে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে এবং প্রয়োজনে যথাসময়ে অনুমোদন দেওয়া হবে। আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে? এর পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ব্যাখ্যা দেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন-কানুন মেনে কাজ করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সাময়িক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার আইন ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাড়াহুড়ো করতে পারে না। তবে তিনি সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং সরকার দেশের সার্বিক অর্থনীতির মাধ্যমে কাজের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট যদি একদিন বা সাত দিনে পারে (ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণ) তাহলে আমাদের সরকারের ৬ মাস অতিবাহিত হচ্ছে-এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করতে আর কতদিন লাগবে?’-জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি SHARES রাজনীতি বিষয়: ই-টেন্ডারদরপত্রমোশারফ হোসেনসংসদস্থানীয় সরকার