আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ১০ স্মরণীয় মুহূর্ত প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ বিশ্বফুটবলের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন চিঠির মাধ্যমে আকাশী-সাদা জার্সিতে নিজের দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের ইতি টানলেন এই কিংবদন্তি। তার জাতীয় দলের দীর্ঘ যাত্রার ১০টি স্মরণীয় মুহূর্ত ও মাইলফলক এখানে তুলে ধরা হলো। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনা হয় ২০০৪ সালের ২৯ জুন। বুয়েনস আইরেসের দিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেক হয় তার। মূলত স্পেন যাতে তাকে দলে না নিতে পারে, সেজন্যই ৭-০ গোলের সেই ম্যাচটি আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিনিয়র জাতীয় দলে তার অভিষেক ঘটে হাঙ্গেরির বিপক্ষে। ২০০৬ সালের ১ মার্চ সুইজারল্যান্ডে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের চমৎকার শটে গোল করলেও আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় সার্জিও বাতিস্তার দল। সান্তা ফে-তে নিজের শহরের দর্শকদের কাছ থেকে দুয়ো ও কটূক্তি শুনতে হয়েছিল তাকে, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম তিক্ত অভিজ্ঞতা। ২০১২ সালের ৯ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে এক মহাকাব্যিক ম্যাচে নিজের জাত চেনান মেসি। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনা ৪-৩ গোলে জয় পায়। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে আলেহান্দ্রো সাবেয়ার অধীনে মেসি দলকে নকআউটে তোলেন এবং ২৪ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দেন। যদিও ফাইনালে জার্মানির কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়, তবুও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তিনি 'গোল্ডেন বল' জেতেন। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টানা দ্বিতীয়বার টাইব্রেকারে হেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তবে দেশবাসীর আকুল আবেদনে তিনি সিদ্ধান্ত বদলে আবারও জাতীয় দলে ফেরেন। এরপর ২০২১ সালে মারাকানায় ব্রাজিলকে ১-০ হারিয়ে ২৮ বছরের ট্রফি খরা কাটায় আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে ৪ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করে মেসি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ জেতান মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের পর ডাচ স্ট্রাইকার ওয়াউট ওয়েঘোর্স্টকে উদ্দেশ্য করে তার 'কে ত মিরাস বোবো' উক্তিটি বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয়। ২০২৪ কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার সময় তার কান্নার দৃশ্য বিশ্ব দেখেছে, তবে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখলে আনন্দের অশ্রুতে তার সেই অধ্যায় শেষ হয়। সবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে মেসি ৮টি গোল করেন এবং মোট ২১টি গোল নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করেন। এছাড়া ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনা কোচ হিসেবে এবং মেসি অধিনায়ক হিসেবে একসাথে কাজ করেছেন, যা ছিল দুই কিংবদন্তির বিরল মেলবন্ধন। কোয়ালিফায়ার ও মূল পর্ব মিলিয়ে তারা একসঙ্গে মোট ২৪টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম গোলের আনন্দ (২০০৬): ২০০৬ সালের ১ মার্চ সুইজারল্যান্ডে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে ১২৫টি গোলের প্রথমটি করেন মেসি। ম্যাচের শুরুতে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের চমৎকার শটে ২-১ ব্যবধানে দলকে এগিয়ে নিলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। SHARES খেলাধুলা বিষয়: আর্জেন্টিনাকোপা আমেরিকাফুটবলবিশ্বকাপলিওনেল মেসি