মেয়েদের বই কিনতে খালি পায়ে ম্যারাথন জয় অদম্য মায়ের প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর দুই মেয়েকে নিয়ে চরম সামাজিক ও আর্থিক সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলার বাসিন্দা রামাবাই রানভিরে (৪৭)। সংসারের হাল ধরতে তিনি স্থানীয় একটি একাডেমিতে রাঁধুনির কাজ বেছে নেন। মুম্বাইয়ে এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়ের পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব তার কাঁধেই এসে পড়ে। চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মেয়েদের পড়াশোনা থামতে দেননি। বড় মেয়েকে আম্বাজোগাইয়ের ওই একাডেমিতে ভর্তি করানোর পর তিনি নিজেই সেখানে রান্নার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করেন এবং তার দুই মেয়ে সেখানে থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি সংগঠন এলাকায় 'অমৃত দৌড়' নামে একটি ম্যারাথনের আয়োজন করে। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে নির্ধারিত ছিল ৩ হাজার রুপি। মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বই কেনার প্রয়োজন হওয়ায় ৪৭ বছর বয়সী রামাবাই এই ম্যারাথনে দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিযোগিতার দিন সাধারণ একটি শাড়ি পরেই তরুণ প্রতিযোগীদের সঙ্গে দৌড়ের লাইনে দাঁড়ান তিনি। দৌড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার পায়ের স্যান্ডেল খুলে যেতে শুরু করে। গতি বজায় রাখতে তিনি স্যান্ডেল হাতে তুলে নেন এবং খালি পায়েই দৌড়াতে থাকেন। কনকনে ঠান্ডা রাস্তা ও পাথরের আঘাতের তোয়াক্কা না করে এক হাতে শাড়ির আঁচল সামলে তিনি একের পর এক তরুণ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সবার আগে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন। তার এই অদম্য জেদ দেখে উপস্থিত দর্শকেরা করতালিতে তাকে অভিবাদন জানান। দৌড় শেষে রামাবাই জানান, অনেক প্রতিযোগী থাকলেও পুরস্কারের টাকাটা জেতার জন্য তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। দৌড়ানোর প্রতিটি মুহূর্তে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল মেয়েদের মুখ ও তাদের ভবিষ্যৎ। কষ্টার্জিত এই ৩ হাজার রুপি দিয়ে তিনি মেয়েদের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বই কিনে দেবেন। মায়ের এই লড়াইয়ে পাশে ছিলেন তার ছোট মেয়ে পূজাও। তিনি নিজেও এই ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। মাকে দৌড়াতে উৎসাহিত করেছিলেন পূজাই, তবে মা যে সবাইকে হারিয়ে প্রথম হয়ে যাবেন, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। SHARES খেলাধুলা বিষয়: অদম্য মামহারাষ্ট্রম্যারাথনরামাবাই রানভিরেশিক্ষার লড়াই