পাকিস্তান ক্রিকেটের ধ্বংসের শুরু ২০০৯ সালের সেই হামলাতেই: আকিব জাভেদ

প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন চলছে ঘোর অন্ধকার সময়। বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন দলটি ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে ইতিমধ্যে হোয়াইটওয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে। মাঠের এই ব্যর্থতার পাশাপাশি সিরিজের মাঝপথে একাধিক সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া এবং কোচিং স্টাফে আকস্মিক রদবদল নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। দলের এমন চরম বিপর্যয়ের পেছনে ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর হওয়া সন্ত্রাসী হামলাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশটির জাতীয় নির্বাচক আকিব জাভেদ।

২০০৯ সালের মার্চ মাসে লাহোরে ভিআইপি নিরাপত্তা বলয়ে থাকা শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ওই ভয়াবহ ঘটনায় ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে ও থিলান সামারাবীরার মতো লঙ্কান তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হন। সাবেক পাকিস্তানি পেসার আকিব জাভেদ মনে করেন, এই একটি ঘটনাই তাদের ক্রিকেটকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

আকিব জাভেদের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটের এই বর্তমান পতন কোনো আকস্মিক বিষয় নয়। তিনি বলেন, 'এটি কোনো রাতারাতি ঘটে যাওয়া বিপর্যয় নয়, কিংবা শুধু পিসিবি চেয়ারম্যান পরিবর্তনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক নেই। আমরা মূলত বছরের পর বছর ধরে নতুন ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়াকে অবহেলা করার খেসারত দিচ্ছি।' তিনি আরও যোগ করেন, ২০০৯ সালের ওই হামলার পর পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দীর্ঘদিনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে দেশটির জাতীয় একাডেমি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মূল খেলার মাঠগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সুযোগ-সুবিধা বা মানসম্পন্ন উইকেট তৈরির মতো কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়নই পাকিস্তানে হয়নি।

অবকাঠামোগত ঘাটতির পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের পিছিয়ে পড়ার পেছনে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ৩৯টিরও বেশি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন আকিব জাভেদ। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিপুল অর্থ ও গ্ল্যামারের প্রতি খেলোয়াড়দের অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'টি-টোয়েন্টি লিগের লোভনীয় হাতছানি লাল বলের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। কারণ সেখানে অর্থ ও গ্ল্যামার দুই-ই বেশি। একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে ক্রিকেটারদের অগ্রাধিকার পাল্টে যায়। অথচ জাতীয় দলের খেলার মান ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারদের নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা উচিত।'

তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে পিসিবি এখন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান এই সাবেক তারকা। আকিব জানান, এখন থেকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য প্রথম শ্রেণির চার দিনের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ক্রিকেটারদের নিজেদের খেলার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিনশেষে তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সেরাটা দিতে চান, নাকি কেবল টি-টোয়েন্টি খেলে সময় কাটাতে চান।