চুলের বিনিময়ে কটকটি: মুকসুদপুর থেকে হারিয়ে যাওয়া এক শৈশব স্মৃতি

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

একসময় গ্রামবাংলার পাড়ায়-মহল্লায় কিংবা বাড়ির উঠানে হঠাৎ শোনা যেত ফেরিওয়ালার সেই পরিচিত ডাক, “কটকটি নেবেন… কটকটি!” সেই আওয়াজ শুনেই শিশু-কিশোররা ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসত। কারো হাতে থাকত পুরোনো কাপড়, কারো কাছে কাগজ, আবার কারো কাছে ছিল মাথার আঁচড়ে উঠে আসা জমানো চুল। এসবের বিনিময়েই মিলত মচমচে ও সুস্বাদু কটকটি।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও একসময় এই প্রথা বেশ জনপ্রিয় ছিল। নারীরা চুল আঁচড়ানোর পর পড়ে থাকা চুল জমিয়ে রাখতেন। ফেরিওয়ালা বাড়িতে এলে সেই চুলের বিনিময়ে পাওয়া যেত কটকটি বা ছোটখাটো খাবার। শিশুদের কাছে এটি ছিল দারুণ আনন্দের, আর গৃহস্থদের কাছে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের বিনিময়ে কিছু পাওয়ার এক অভিনব সুযোগ।

সময়ের পরিবর্তনে মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। বাজারে এখন নানা ধরনের প্যাকেটজাত খাবার সহজলভ্য। আধুনিকতার ভিড়ে মুকসুদপুর থেকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে চুলের বিনিময়ে কটকটি বিক্রির সেই চিরচেনা রীতি। আজ আর সেই ফেরিওয়ালার ডাক নেই, উঠানে শিশুদের ভিড়ও নেই।

মুকসুদপুর উপজেলার উজানি এলাকার বাসিন্দা রফিক জানান, আগে মানুষের জীবন ছিল সহজ-সরল। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস ফেলে না দিয়ে বিনিময়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা হতো, যা থেকে আনন্দের ছোট ছোট মুহূর্ত তৈরি হতো। কিন্তু এখন সব কিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। এখন অনেক কোম্পানি প্যাকেটজাত কটকটি তৈরি করে, তাই শিশুরা দোকান থেকেই তা কিনে খায়।

বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু কয়েক দশক আগেও এটি ছিল গ্রামীণ জীবনের এক স্বাভাবিক চিত্র। আজও মুকসুদপুরের মানুষের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে সেই দিনগুলো—এক মুঠো চুলের বিনিময়ে এক প্যাকেট কটকটি আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শৈশবের এক টুকরো আনন্দ। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও, কিছু স্মৃতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অমূল্য ঐতিহ্য হয়ে ওঠে।

ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।

নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত