জনদুর্ভোগ নিরসনে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকল্প নেই প্রকাশিত: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ জনজীবনের চলমান সমস্যাগুলোর নিগূঢ় কারণ বিশ্লেষণ ও সমাধানের পথ খোঁজার চেয়ে জনপরিসরে ক্ষোভ ও হতাশার আলোচনাই বেশি প্রাধান্য পায়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং ভয়াবহ যানজটের মতো বিষয়গুলো জনজীবনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বাইরেও জাতীয় পর্যায়ে আরও অনেক বড় বড় সমস্যা রয়েছে, যা অনেক সময় জনমনে গুরুত্ব পায় না। পরিবেশবাদীদের ‘ডার্টি ডজন’ তালিকার মতো দেশ ও সমাজের দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সমস্যাগুলোর একটি ত্রৈমাসিক তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। এমন চর্চা থাকলে নাগরিকরা সমকালীন সংকটগুলো গভীরভাবে বুঝতে পারতেন এবং সমাধানের জন্য জোরালো দাবি জানাতে পারতেন। এতে গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজতর হতো এবং কোনো দ্বিধা থাকত না। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অতীতে হাসিনা সরকার গলাবাজি ও জুলুমের জোরে ব্যর্থতা ও অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা করেছিল, যা জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের আগ পর্যন্ত বজায় ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সামনে এখন পূর্ববর্তী আয়োজন, ব্যবস্থা এবং দেশি-বিদেশি চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে হরিলুট এবং আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তির মতো বিষয়গুলো জনস্বার্থ রক্ষা করেছে কি না, তা দেশবাসীকে জানানো জরুরি। মানুষ জানতে চায়, হাসিনার আমলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট না থাকলেও এখন কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প ও নাতানিয়াহুর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি আমদানির বিকল্প পরিকল্পনা কী, সেটিও বড় প্রশ্ন। দীর্ঘ দুঃশাসন ও বিপ্লবের পর সমাজে অনিশ্চয়তা ও নৈরাজ্য তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বারবার চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর মানুষের আস্থা কমতে থাকে। একইভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ থাকা স্বাভাবিক, যদি না অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারায় সবার আয় বাড়ত এবং সামাজিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি থাকত। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়া নগরজীবনের এক চরম হতাশাজনক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জন্য বিনিয়োগ ও জনগণের উদ্দীপনা প্রয়োজন, অথচ কলকারখানা, ব্যবসা ও কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে জালিয়াতি ও কুশাসনের দায় এখন আমানতকারী, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও করদাতাদের বহন করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে জ্বালানি সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না, আর জ্বালানির অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে রপ্তানি খাত সংকোচনের মুখে পড়েছে। এটি এক দুষ্টু চক্রে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসের এই জটিল সময়ে অচলায়তন ভাঙার দায়িত্ব বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর। ২০২৪-এর বিপ্লব জনআকাঙ্ক্ষাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং নতুন প্রজন্মকে সামনে এনেছে। তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব বা উদ্যোগ নিতে গিয়ে বাধা পাওয়ার বিষয়টি গণতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষে জনগণের সমস্যা এড়িয়ে চলার কোনো সুযোগ নেই। সমস্যা যত বড়ই হোক, উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু রাষ্ট্রীয় নীতি, সুস্থ রাজনীতি এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের উদ্যমী কার্যক্রম। SHARES মতামত বিষয়: অর্থনীতিজনদুর্ভোগজাতীয় সমস্যাজ্বালানি সংকটসরকার