লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে ধীরগতি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি প্রকাশিত: ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সিংগারপুরে মাছ ধরার সময় জেলের জালে একটি শটগান উঠে আসার ঘটনাটিকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, উদ্ধার হওয়া এই আগ্নেয়াস্ত্রটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সরকারি স্থাপনা থেকে খোয়া যাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো কেন অপরাধীদের কব্জায় রয়ে গেছে এবং দুই বছরেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হলো না কেন? পুলিশ সদর দপ্তর ও কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেই অস্থির সময়ে দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ খোয়া গিয়েছিল। যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এর একটি বড় অংশ উদ্ধার হলেও এখনো ১ হাজার ৩১৮টি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও আড়াই লাখের বেশি তাজা গুলি নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪০ জন বন্দীর মধ্যে ৬৮৩ জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, পলাতক আসামিদের মধ্যে ৬০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি এবং ৯ জন শীর্ষ তালিকাভুক্ত জঙ্গি রয়েছে। অপরাধীদের হাতে এসব মারণাস্ত্র এবং সমাজে তাদের অবাধ বিচরণ দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডে লুণ্ঠিত অস্ত্রের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এমনকি এসব অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে পুলিশের একজন কনস্টেবলের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। কারা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা জননিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করলেও, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘ধীরগতিতে অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে’ বলে দাবি করা হয়েছে। তবে জননিরাপত্তার প্রশ্নে এমন ধীরগতির অভিযান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি অস্ত্র বা তাজা গুলি দুষ্কৃতকারীদের হাতে থাকবে, ততক্ষণ সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এছাড়া জঙ্গিরা বাইরে থেকে পুনরায় অপরাধী সিন্ডিকেট বা নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্যও হুমকিস্বরূপ। লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াকে গতানুগতিক ছকে আটকে রাখা চলবে না। গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত ও সুনির্দিষ্ট যৌথ অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তি রক্ষায় টেকসই জননিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি বেহাত হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক বন্দীদের আইনের আওতায় আনাই এখন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। SHARES মতামত বিষয়: অপরাধ দমনআইনশৃঙ্খলাগণ-অভ্যুত্থানজননিরাপত্তালুণ্ঠিত অস্ত্র