টেকনাফে নাফ নদীতে নৌকায় বাঁধা ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ২ প্রকাশিত: ১১:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী থেকে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় ১৪ লাখ ইয়াবার একটি বিশাল চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মাদক পাচারের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একক কোনো অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের মধ্যে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় চালান। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত মাদক পাচারকারীরা রাতের আঁধারে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করে থাকে। তবে এবার কৌশল বদলে দিনের বেলাতেই জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে মিয়ানমার থেকে একটি নৌকায় করে এই ইয়াবার চালানটি নিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিজিবি সদস্যরা নৌকাটি তল্লাশি করে ৬টি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে ৯৮৪টি প্যাকেটে মোড়ানো মোট ১৪ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করতে সক্ষম হয়। এ সময় জেলের ছদ্মবেশী ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইয়াবা মূলত একধরনের ক্ষতিকর মাদক, যা মেথঅ্যামফিটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি হয়। থাই ভাষা থেকে উৎপত্তি হওয়া এই শব্দটির সংক্ষিপ্ত অর্থ হলো ‘পাগলা ওষুধ’ বা ‘ক্রেজি মেডিসিন’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োজিত থাকা সৈনিকদের ক্লান্তি দূর করে শরীরে তাৎক্ষণিক উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনার জন্য এই মাদকটি প্রথম আবিষ্কার করা হয়েছিল। তৎকালীন জার্মান প্রেসিডেন্ট অ্যাডলফ হিটলারের নির্দেশে দেশটির বিজ্ঞানীরা টানা পাঁচ মাসের নিরলস গবেষণার পর এটি তৈরি করতে সক্ষম হন। ইয়াবার মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় মেথঅ্যামফিটামিন। চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবা সেবনের ফলে মানুষের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ডসহ শরীরের যেকোনো অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে মানুষের পুরো শরীর, মন ও মানসিকতাকে অকেজো করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদি আসক্তির কারণে অনেক সময় মানুষের মস্তিষ্কের বিকৃতিও ঘটতে পারে। কখনো কখনো ইয়াবার সঙ্গে ক্যাফেইন বা হেরোইন মেশানো হয়, যা শরীরের ক্ষতির মাত্রা আরও বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। একসময় সর্দি ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার চিকিৎসায় এই ওষুধটি ব্যবহার করা হতো। এছাড়া ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার গুণের কারণে একসময় এটি ওজন কমানোর ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে ক্লান্তি দূর করার উদ্দেশ্যে অনেক শিক্ষার্থী, দূরপাল্লার গাড়িচালক এবং দৌড়বিদরা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন। তবে এর মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ইয়াবা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ইয়াবা উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে মিয়ানমার। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে টেকনাফ সীমান্ত ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবা পাচার শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত ইয়াবার বড় বড় চালান জব্দ করলেও এই ক্ষতিকর মাদকের পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম বিভাগের খবর, Chattogram Division News WhatsApp-Image-2026-09-09-at-10.26.02-PM.jpeg SHARES জাতীয় বিষয়: ইয়াবা জব্দকক্সবাজারটেকনাফনাফ নদীবিজিবিমাদক পাচার