ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, চালু অক্টোবরে প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন আরেকটি ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী জনপ্রিয় ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিকে পর্যটন শহর কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে। রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ট্রেনটি নতুন এই বর্ধিত রুটে চলাচল শুরু করতে পারে। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে যেসব ট্রেন চলাচল করছে, সেগুলো চট্টগ্রাম ছাড়া মাঝপথে অন্য কোনো স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় না। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রী ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই রুটে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করা। মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার মাধ্যমে মধ্যবর্তী স্টেশনগুলোর যাত্রীদের সরাসরি পর্যটন শহরে যাতায়াতের সেই সুযোগ করে দিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস জানান, কক্সবাজার রুটে যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ট্রেনটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা স্বস্তিতে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন এবং রেলের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এর আগে গত ১ আগস্ট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ পরিদর্শনকালে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছিলেন, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা চার জোড়া থেকে বাড়িয়ে পাঁচ জোড়ায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল শুরু হলে মহানগর এক্সপ্রেসের বর্তমান সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত সাড়ে আটটায় ছেড়ে সকাল ছয়টায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে। আবার কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি ট্রেনটি ছাড়বে সকাল ৯টায়। একমুখী এই যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা। বর্তমানে রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল-৫৪ (ডব্লিউটিটি) অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে ছেড়ে রাত সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রামে পৌঁছায়। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দর ছাড়াও নরসিংদী, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আখাউড়া ও কসবা, কুমিল্লার কুমিল্লা সদর, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট, ফেনী এবং চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি রয়েছে। এসব এলাকার যাত্রীদের এত দিন সড়কপথে কক্সবাজার যেতে হতো, তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে তারা সরাসরি ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ১১টায় ছেড়ে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে এবং পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল সোয়া ছয়টায় ছেড়ে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছায়। নতুন ট্রেনটি চালানোর জন্য কক্সবাজারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এদিকে ঢাকা থেকে নতুন ট্রেন চালুর তোড়জোড় চললেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলরত ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি সংযোজন ও উন্নত মানের কোচ যুক্ত করার প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। বর্তমানে এই রুটে দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে, যা মাত্র একটি রেক (ইঞ্জিন ও কোচ মিলিয়ে একটি সেট) দিয়ে পরিচালনা করা হয়। এর ফলে প্রায়ই সময়সূচি বিপর্যয় ঘটে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, চাহিদা থাকার পরও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোর বগিগুলো পুরোনো ও মানসম্মত নয়। বিশেষ করে এসি বগি ও কেবিন সুবিধা না থাকায় অনেকে ট্রেন ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ১৬টি পুরোনো কোচ নিয়ে চলাচল করছে। পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি ট্রেনে ১টি এসি কেবিন, ১টি নন-এসি কেবিন, ৩টি এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা), ৮টি শোভন চেয়ার, ১টি পাওয়ার কার এবং ২টি গার্ড ব্রেকসহ প্রায় সাড়ে ৭০০ আসনের উন্নত কোচ সংযোজন করার। তবে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কোচ আমদানি না হওয়া পর্যন্ত আপাতত এই রুটে এসি বগি বা উন্নত কোচ যুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই। SHARES জাতীয় বিষয়: কক্সবাজার পর্যটনঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনবাংলাদেশ রেলওয়েমহানগর এক্সপ্রেসরেলপথ