আমানত বাড়লেও বিনিয়োগ স্থবির, খেলাপি ঋণের চাপে ব্যাংকিং খাত প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ব্যাংকিং খাতে প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের আমানত রাখার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মে মাস শেষে ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৪১ হাজার ৬৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। মেয়াদি আমানত বৃদ্ধির কারণেই মূলত এই খাতের আমানত বেড়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। তবে আমানত বাড়লেও এই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। জুন ২০২৬-এর মুদ্রা ও ঋণসংক্রান্ত তথ্যমতে, বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যেখানে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। উচ্চ সুদহার, মূল্যস্ফীতি, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ব্যাংকিং খাতের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। মার্চ শেষে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। ফলে খেলাপি ঋণের অনুপাত ব্যাংকিং খাতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাপি ঋণের এই বিস্ফোরণের পেছনে অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক প্রভাব, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ অনুমোদন এবং ঋণ আদায়ে দুর্বলতাকে দায়ী করা হচ্ছে। একদিকে সাধারণ মানুষের আমানতের বিপরীতে তারা তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তি ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর খেলাপী হিসেবে দেশ-বিদেশে আয়েশী জীবন কাটাচ্ছেন, যা সাধারণ আমানতকারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: অর্থনীতিআমানতখেলাপি ঋণবাংলাদেশ-ব্যাংকব্যাংকিং খাত