নবীজির (সা.) জীবন থেকে সময় ব্যবস্থাপনার ১০টি কার্যকর সূত্র প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ রাত ১২টা, চোখে ঘুম নেই, কম্পিউটার খোলা—অফিসের কাজের চাপে দিশেহারা মানুষ প্রায়ই ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে ও মানসিক প্রশান্তি হারায় (ক্রেইনার, জি ই, ২০০৬, জার্নাল অব অর্গানাইজেশনাল বিহেভিয়ার, ২৭/৪, জন উইলি অ্যান্ড সন্স)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি কাজের সময়ের পরিমাণে নয়, বরং সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং কাজের প্রতি অনীহায়। যারা কাজের সময় ও পরিবারের সময়ের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রাখতে পারেন, তাদের মানসিক সুস্থতা তুলনামূলক ভালো থাকে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সময়ের নামে শপথ করে বলেছেন, ‘শপথ সময়ের। নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে’ (সুরা আসর, আয়াত: ১-২)। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: সুস্থতা ও অবসর সময়’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১২)। এই দুটি জিনিস মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে। সাহাবি সালমান ফারসি (রা.) একদিন আবু দারদা (রা.)-কে বলেছিলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের হক আছে তোমার ওপর, তোমার নিজের হক আছে তোমার ওপর, তোমার পরিবারের হকও আছে তোমার ওপর। প্রতিটি হকদারকে তার হক দাও’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৬৮)। নবীজি (সা.) এই কথাটি সমর্থন করেছিলেন। এমনকি রাত জেগে নফল ইবাদতকারী সাহাবিকেও তিনি থামিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ অতিরিক্ত ইবাদতও যদি পরিবারের হক নষ্ট করে, তবে তা ভারসাম্যহীনতা। মহানবী (সা.) মাত্র ২৩ বছরে একটি গোটা জাতির চিন্তা, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বদলে দিয়েছেন। তাঁর দিনও ছিল ২৪ ঘণ্টার। যুদ্ধ পরিচালনা, বিচারকার্য, প্রতিনিধিদল গ্রহণ—সবকিছুর পাশাপাশি তিনি নিজের ঘরের কাজও করতেন। আয়েশা (রা.) বলেছেন, তিনি নিজের জামা নিজে সেলাই করতেন, ছাগলের দুধ দোহন করতেন এবং নিজের জুতা নিজে মেরামত করতেন (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৪৯০৩)। সকালের বরকতময় সময়ের গুরুত্ব দিয়ে রাসুল (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের সকালবেলায় বরকত দাও’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬)। তিনি নিজেও যুদ্ধের অভিযান ও ব্যবসার কাফেলা ভোরে পাঠাতেন। সাহাবি সাখর ইবনে ওয়াদাআ (রা.) এই সুন্নত মেনে ভোরে ব্যবসা শুরু করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিলেন (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১২১২)। সফল জীবনের জন্য নবীজির (সা.) ১০টি সময় ব্যবস্থাপনার সূত্র হলো: রাতে ঘুমানোর আগে পরবর্তী দিনের কাজের পরিকল্পনা লিখে রাখা; সকালে উঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দিয়ে শুরু করা; অফিসের কাজ বাসায় না আনা এবং স্পষ্ট দেয়াল তৈরি করা; নামাজের ওয়াক্তকে দিনের স্বাভাবিক বিরতি বা রিসেট বাটন হিসেবে ব্যবহার করা; সব কাজে হ্যাঁ না বলে ‘না’ বলার অভ্যাস করা; রাতে ঘুমানোর আগে দিনের হিসাব নেওয়া; কাজের প্রতি ভালোবাসা ও একাগ্রতা রাখা; দিনের শুরুটা আল্লাহর কাছে সময়ের বরকতের দোয়া চেয়ে করা; সাহাবিদের মতো দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া এবং সকালে বরকতের আশায় কাজ শুরু করা। আপনার দিনও ২৪ ঘণ্টার, পার্থক্যটা সময়ের পরিমাণে নয়, বরং সময়ের ব্যবহার পদ্ধতিতে। আজ থেকে অফিসের সময় পূর্ণ মনোযোগ দিন, মুঠোফোন দূরে রাখুন এবং বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে একনিষ্ঠভাবে সময় কাটান। দোয়ায় সময় বাড়বে না, কিন্তু বরকত আসবে। SHARES ধর্ম বিষয়: ইসলামজীবনধারানবীজিসময় ব্যবস্থাপনাসাফল্য