বাঁকখালীতে ভাসল সাত কল্পজাহাজ, সম্প্রীতির বার্তা রামুতে প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সোমবার বিকেলে কক্সবাজারের রামু সদরের চেরাংঘাটা এলাকায় বাঁকখালী নদীতে সাতটি ঐতিহ্যবাহী কল্পজাহাজ ভাসানো হয়েছে। শত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্য রক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার থেকে জাহাজগুলো তৈরি করে আনা হয়। বাঁশ, কাঠ, বেত ও রঙিন কাগজের নিপুণ কারুকাজে তৈরি এসব জাহাজে হাতি, হরিণ, ঘোড়া, পঙ্খীরাজ, হাঁস-ময়ূরসহ নানা প্রাণী ও ধর্মীয় জাদির অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নদীর দুই তীরে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের উপস্থিতি ও বৌদ্ধ কীর্তন, গান ও বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীরা হাত নেড়ে জাহাজগুলোকে শুভেচ্ছা জানান এবং অনেকে মুঠোফোনে এই আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এবারের আয়োজনে রামুর ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা তুলে ধরা হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় ঐতিহ্য হলেও এতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। পর্যটক সমির মল্লিক ও স্থানীয় কিং সেন মং জানান, এমন বৈচিত্র্যময় আয়োজন তাদের মুগ্ধ করেছে। জুনায়েদ চৌধুরীর মতে, এটি এখন কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর মতে, প্রায় দুইশ বছর আগে মিয়ানমারে এই উৎসবের প্রচলন হয়, যা পরবর্তীতে রামুসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, আড়াই হাজার বছর আগে মহামতি বুদ্ধের মগধ থেকে বৈশালী যাওয়ার স্মৃতির সঙ্গেও এই উৎসবের যোগসূত্র রয়েছে। উৎসবের আগের দিন সন্ধ্যায় রামু মৈত্রী বিহার ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার প্রাঙ্গণে ফানুস উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেখানে ফানুসের গায়ে বুদ্ধের জীবনদর্শন ও বিভিন্ন অধ্যায় চিত্রিত করা হয়। এছাড়া বাঁকখালী নদীর পাশাপাশি কক্সবাজারের কবিতা চত্বর সৈকত, চৌফলদণ্ডী, চকরিয়ার হারবাং ও টেকনাফেও এই উৎসব পালিত হয়েছে। নদীর চরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বিপ্লব বড়ুয়া। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সুকুমল বড়ুয়াসহ অন্যান্য নেতারা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন। SHARES ধর্ম বিষয়: কক্সবাজারকল্পজাহাজপ্রবারণা পূর্ণিমাবাঁকখালীরামুসম্প্রীতি