বদনজর থেকে সুরক্ষায় ইসলামি দোয়া ও আমল প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ইসলামি শরীয়তে বদনজরের প্রভাবকে বাস্তব হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। বদনজর মূলত কারো হিংসাত্মক কুদৃষ্টির কুফল, যা আল্লাহকে স্মরণ না করে কোনো জিনিসের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেওয়ার ফলে ঘটে। এর প্রভাব কেবল মানুষের ওপরই নয়, বরং বিভিন্ন বস্তুর ওপরও পড়তে পারে। যাকে বদনজর করা হয়, তার ওপর এর বিষাক্ত তির নিক্ষিপ্ত হয়। এটি কখনও কার্যকর হয়, আবার কখনও হয় না। যার প্রতি বদনজর করা হয়, সে যদি প্রতিরক্ষাহীন অবস্থায় থাকে তখন ওই কুদৃষ্টি ক্রিয়াশীল হয়। আর প্রতিরক্ষা অবস্থায় তার কাছে পৌঁছাতে না পারলে এর কোনো প্রভাব পড়ে না। কোরআন ও হাদিসে বদনজরের সত্যতা প্রমাণিত। মানুষের চোখ বা কুদৃষ্টি লাগা এবং এর ফলে মানুষ কিংবা জন্তু-জানোয়ারের কষ্ট হওয়া কোনো মূর্খতাসুলভ কুসংস্কার নয়। ইয়াকুব (আ.) তার পুত্রদের আত্মরক্ষার চিন্তা করে কুদৃষ্টি এবং হিংসার আশঙ্কাবশত ছেলেদের একই দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিলেন (সুরা ইউসুফ : ৬৭-৬৮)। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'বদনজরের প্রভাব সত্য' (বোখারি : ৫৩২৯; মুসলিম : ৫৫১৩)। আসমা বিনতে উমায়স (রা.) যখন রাসুল (সা.)-কে জাফরের সন্তানদের নজর লাগার বিষয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর অনুমতি চাইলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, 'হ্যাঁ, কোনো জিনিস যদি তকদিরকে অতিক্রম করার মতো হতো, তবে বদনজর অবশ্যই তা অতিক্রম করতে পারত' (তিরমিজি : ২০৫৯)। এছাড়া আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বদনজর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন (ইবনে মাজাহ : ৩৫০৮)। বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে (তিরমিজি : ৩৫৭৫)। এছাড়া আরও একটি দোয়া রয়েছে যা হলো: 'বিসমিল্লা হিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন, ফিলআরদি ওয়ালা-ফিসসামায়ি, ওয়া হুও য়াস সামিউল আলিম' (তিরমিজি : ৩৩৩৫)। এই দোয়াগুলো কয়েকবার পড়ে শরীরে ফুঁ দিলে বা হাত মুছে নিলে আল্লাহর রহমতে বদনজর থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। বাচ্চাদের সুরক্ষার জন্য কর্তব্য হচ্ছে, মাঝেমধ্যেই দোয়া পড়ে তাদের গায়ে ফুঁ দেওয়া, যেমনটা রাসুল (সা.) হাসান ও হুসাইনের বেলায় করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়ে হাসান-হুসাইন (রা.)-কে ফুঁ দিয়ে দিতেন: 'আউজি বিকালিমা-তিল্লাহিত্ তা-ম্মাহ। মিন কুল্লি শাইতানিন-ওয়া হাম্মাহ। ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ' (বোখারি : ৩১৯১)। আল্লাহ আমাদেরকে বদনজর থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন। SHARES অন্যান্য বিষয়: ইসলামকুদৃষ্টিদোয়াবদনজররাসুল সা.