এমপি পদ ছাড়ার ঘোষণা সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যেতে চান। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি ছিলেন স্টারমার। দীর্ঘদিন ধরে এটি লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তার এই পদত্যাগের ফলে আসনটিতে এখন উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সময় স্টারমার জানিয়েছিলেন যে, ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত তিনি এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের হাউস অব কমন্সে প্রথম বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি আকস্মিকভাবে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন।

ক্যামডেন নিউ জার্নালকে স্টারমার বলেন, গত ১১ বছর হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের প্রতিনিধিত্ব করা তার জন্য বিশাল সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। তিনি এখন দায়িত্বের পালা উত্তরসূরির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধের দীর্ঘদিনের কাজটিও চালিয়ে যাবেন।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, স্টারমার আজীবন জনসেবা করেছেন এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা মানুষের পাশে থেকেছেন। বার্নহ্যাম আরও বলেন, স্টারমারের নেতৃত্ব লেবার পার্টিকে বড় পরাজয় থেকে বিজয়ের দিকে নিয়ে গেছে এবং দেশ পরিবর্তনের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে লেবার এমপিদের একাংশের চাপের মুখে গত জুলাই মাসে তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়েন। স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির নেতা কেমি বেডেনক তার মঙ্গল কামনা করলেও, লেবার এমপিদের সঙ্গে সময় কাটাতে না চাওয়ার কারণ তিনি বুঝতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন।