নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১২২৫ ছাড়াল

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে ১২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকলেও এখনো প্রায় ৪,৭৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের ভোতেকোশি নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উদ্ধারকারীরা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা দ্রুত আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন। চীনের গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তে এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪১ জন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই দুর্যোগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মহলে এই জলবায়ু সমস্যাটি জোরালোভাবে উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

২৬ অগাস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয়ের লেন্দে উপত্যকায় লাংটাং লিরুং পর্বতের হিমবাহের একটি বিশাল অংশ নিচে লেন্দে খোলা নদীতে আছড়ে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট তীব্র হড়পা বান ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে নেমে এসে সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও শহরগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে শুরুতে ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করলেও পরে তা সংশোধন করে হিমবাহ ধসের কারণেই এই ভূকম্পন ঘটেছে বলে নিশ্চিত করে।

পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আসা তীব্র গতির এই বন্যায় নেপালের উত্তরাঞ্চলের ৪১টি কংক্রিটের সেতু পুরোপুরি ভেসে গেছে এবং আরও চারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু নুয়াকোট জেলাতেই ১২৬৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস এবং ১২৫৩টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি সামনে আসেনি।