ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগে কঠোর শর্ত দিল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ২৭ দেশের ব্যাংক খাতের মালিকানায় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিনিধি পরিচালক (রিপ্রেজেন্টেটিভ ডিরেক্টর) নিয়োগের নিয়ম আরও কঠোর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক হতে হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অথবা পরিচালক হতে হবে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির নিজস্ব নামে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পরিমাণের শেয়ারের মালিকানাও থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তার নিট সম্পদের (নেট ওয়ার্থ) চেয়ে বেশি মূল্যের শেয়ার একক বা একাধিক ব্যাংকে ধারণ করতে পারবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই সীমা অতিক্রম করে থাকে, তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তা নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে。 নতুন নিয়মানুযায়ী, প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে ওই ব্যক্তির নিজের নামে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। অন্য কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে এই মালিকানার হার হতে হবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ২০ শতাংশ। এই শেয়ারগুলো অবশ্যই দায়মুক্ত হতে হবে এবং প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পুরো সময় জুড়ে এই শেয়ারের মালিকানা বজায় রাখতে হবে। সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচালক নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ কিংবা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এই অনুমোদনের আবেদন করার সময় মনোনীত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানে মালিকানা থাকার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। পূর্বে ব্যাংকের পর্ষদে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া প্রতিনিধি পরিচালকদের পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে। এছাড়া বিষয়টি ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করে পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে এবং কর্মকর্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের নজরে আনতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, শেয়ারধারী কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ কমানো, প্রতিনিধি পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অতীতে এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোতে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে এমন ব্যক্তিদের পরিচালক করা হতো, যারা মূলত ওইসব গ্রুপের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। এর ফলে প্রতিনিধি পরিচালকদের স্বাধীনতা, প্রকৃত মালিকানার প্রতিনিধিত্ব এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ওইসব গ্রুপের নিজস্ব স্বার্থই প্রাধান্য পেত। নতুন এই শর্তের ফলে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিচালকের প্রকৃত মালিকানার সম্পর্ক নিশ্চিত হবে এবং শুধু কর্মকর্তা বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ার সুবাদে ব্যাংকের পর্ষদে বসার সুযোগ বন্ধ হবে। এতে করে ভবিষ্যতে ব্যাংকের পর্ষদে কে কার স্বার্থে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: আর্থিক নীতিমালাপ্রতিনিধি পরিচালকবাংলাদেশ-ব্যাংকব্যাংক পর্ষদব্যাংকিং খাত