দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র, বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন

প্রকাশিত: 4:02 PM, July 22, 2026

ভারতে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন।

পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের টানা ২৫ দিনের অনশন কর্মসূচি এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক পুলিশি অ্যাকশনের কারণে এই বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনমুখী অভিযান রুখতে পুরো দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধ ঘোষিত মেট্রো স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, khan মার্কেট, জোর বাগ ও শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত সোমবার শিক্ষার্থীদের ‘চলো সংসদ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে। ওই সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীজুড়ে কড়া ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অতিরিক্ত ২০টি কোম্পানিকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের সমর্থনে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের সাময়িকভাবে আটক করে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলগুলো সংসদে আলোচনার পথ পরিহার করে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি ও আন্দোলনের অচলাবস্থা নিরসনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বুধবার সিজেপি প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশের নানামুখী বাধা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।