শরণখোলায় প্রাইভেট ক্লিনিকের বাথরুম থেকে নার্সের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: 6:01 PM, July 23, 2026

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতাল (প্রাইভেট) থেকে রিক্তা আক্তার ওরফে হাসিনা বেগম (৩৪) নামের এক নার্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২৩ জুলাই ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালের বাথরুম থেকে পুলিশ ও সহকর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত রিক্তা আক্তার উপজেলার উত্তরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জসীমউদ্দীনের স্ত্রী। তিনি গত ৩ জুলাই ওই হাসপাতালে নার্স হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং রাতে ডিউটি করতেন। স্বামী জসীমউদ্দীন জানান, গত ২২ জুলাই রাত সাড়ে সাতটার দিকে রিক্তা বাড়ি থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন।

হাসপাতালটির পরিচালক আলীম আল রাজি মুক্তি জানান, রাতে ডিউটি চলাকালীন রাত ১টা ৫৭ মিনিটের দিকে রিক্তা আক্তার বাথরুমে যান। আধা ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বের না হওয়ায় সহকর্মীরা ডাকাডাকি শুরু করেন। সাড়া না পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাথরুমের ভেতর তার হাতের কাছে একটি প্যাথেডিন ইনজেকশন সুই পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই ব্যবহার করা হয়েছে। নিহতের স্বামী জসীমউদ্দীন জানিয়েছেন, রিক্তার হার্টের সমস্যা ছিল এবং তিনি প্রায়ই ঘুম ও ব্যথা নিবারণের জন্য ঘুমের ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহার করতেন। এ বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসার জানান, প্যাথেডিন ইনজেকশন ঘুমের কাজ করলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার যেকোনো ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে প্যাথেডিন ইনজেকশন ব্যবহারের স্থানে কালো দাগ রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।