জবিতে ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য চিকিৎসক মাত্র একজন প্রকাশিত: 12:39 PM, July 25, 2026 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একমাত্র ভরসা এখন একজন মাত্র চিকিৎসক। দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তীব্র চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের অপ্রতুলতা, জনবল সংকট এবং মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ধুঁকছে এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি। ফলে প্রতিদিন সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জবি মেডিকেল সেন্টারে বর্তমানে উপ-প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতা শবনম একাই সব রোগীর দেখভাল করছেন। তার চিকিৎসাসহায়তায় রয়েছেন দুজন টেকনিক্যাল অফিসার, একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও দুজন এমএলএসএস। আগে এখানে দুজন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও একজন চলে যাওয়ার পর সেই শূন্য পদে আর কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অথচ এই সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী সেবা নিতে আসেন। বিশাল এই রোগীর চাপ একজন চিকিৎসকের পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এখানে এসে নামমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোকসেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একজন চিকিৎসক কোনোভাবেই যথেষ্ট হতে পারে না। অসুস্থ শরীর নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, আবার অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না। তিনি দ্রুত নতুন চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান। অন্যদিকে, ইংরেজি বিভাগের তানভীর আহমেদ বলেন, মেডিকেল সেন্টারের সেবার পরিধি অত্যন্ত সীমিত। এখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। বিকেল ৪টার পর কোনো ডাক্তারকে পাওয়া যায় না। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে রাতে বা অসময়ে এসে মেডিকেল সেন্টার বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে ডা. মিতা শবনম নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, আগে আমরা দুজন কর্মরত ছিলাম। একজন চলে যাওয়ার পর এখন প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব আমার একার ওপর পড়েছে। তিনি জানান, নতুন জনবল নিয়োগের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন পদ অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে কোনোমতে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বাইরে রেফার করতে হয়। মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় জরুরি সময়ে সব চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না বলেও তিনি জানান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, তারা মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কাজ করছেন। একটি আধুনিক মেডিকেল ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও জায়গা সংকটের কারণে তা শুরু করা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের অনেক উদ্যোগই আটকে আছে। তবে নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. কেএএম রিফাত হাসান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় জায়গার বেশ অভাব রয়েছে। তবে এটিকে একটি আধুনিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংকটের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, মেডিকেল সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকট চলছে। এই সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে ইউজিসিতে বিশেষভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। উপাচার্য আরও বলেন, আমরা অবশ্যই চাই শিক্ষার্থীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাক। কিন্তু ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ নিজেদের অর্থায়নে নিয়োগ দিলে তাদের বেতনের সংস্থান করা যাবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউজিসি দ্রুত অনুমোদন দিলে এই সংকটের সমাধান হবে। SHARES শিক্ষা বিষয়: চিকিৎসক সংকটজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়জবি মেডিকেল সেন্টারজবি শিক্ষার্থী ভোগান্তিডা. মিতা শবনম