সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনে ধীরগতি: মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতে স্থবিরতা

প্রকাশিত: 12:02 PM, July 25, 2026

আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই কমিটিগুলোকে অনেকটা ছায়া সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শাসক দল বিএনপি সংসদের গত দুটি অধিবেশনেও সব স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি।

সংসদীয় গণতন্ত্রচর্চায় এই ধীরগতিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার জানান, স্থায়ী কমিটিগুলোর ক্ষমতা সীমিত হলেও তারা মন্ত্রণালয়ের ভালো-মন্দ তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কমিটি গঠনে বিলম্ব হলে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, চাইলেই সব কমিটি দ্রুত গঠন করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, যেগুলো দ্রুত করতে হবে, সেগুলো আমরা করেছি। কিছু কমিটি স্পিকার নিজে করবেন। এছাড়া সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে নাম চেয়েছি, তারা নাম দিলেই কমিটি গঠন শেষ হবে। কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী তিনটি অধিবেশনের মধ্যে সব কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই বাকি কমিটিগুলো গঠিত হবে।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির ২৪৬ বিধি ও সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিগুলোর দায়িত্ব হলো খসড়া বিল ও আইন পরীক্ষা করা, আইন বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ প্রদান করা এবং সংসদ অর্পিত অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করা।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাশ হয় এবং পাঁচটি স্থায়ী ও দুটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এরপর ৭ জুন থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনে ৩০ জুন বাজেট পাশ হয় এবং ১৫ জুলাই অধিবেশন শেষ হয়। ২৬ কার্যদিবসের এই দ্বিতীয় অধিবেশনে আরও ১০টি স্থায়ী কমিটি ও একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই অধিবেশনের ৫১ কার্যদিবসে তিনটি বিশেষসহ মোট ১৮টি কমিটি গঠিত হয়েছে। বর্তমানে সংসদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৫০টি কমিটির মধ্যে এখনো ৩৫টি কমিটি গঠনের কাজ বাকি রয়েছে।