এমপি নজরুলের ভিডিও ফাঁসের নেপথ্যে ড্রাইভারের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য

প্রকাশিত: 8:39 PM, July 28, 2026

সংসদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এই সম্পর্ক ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কোটিপতি বানানোর প্রলোভনও দেখিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান।

ওবায়দুর জানান, তিনি ওই তরুণীর মামা হন এবং মাসুম বিল্লাহর সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দাবি করেন, টাকার লোভে তরুণীর মা-বাবা এই সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি করেননি। ওবায়দুরের ভাষ্যমতে, তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহ তাকে বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’ এর অংশ হিসেবেই এমপি গাজী নজরুল মাসুম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন। ওবায়দুর জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঁচটি কাজের দরপ্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এমপির তদবিরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে তাদের অনুকূল একজন প্রকৌশলীকে বদলি করে আনার ঘটনাও ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভিডিও ফাঁসের ঘটনা সম্পর্কে ওবায়দুর রহমান জানান, তিনি ঘটনার সত্যতা সংগ্রহের জন্য একটি বাসায় ডিভাইস সেট করেছিলেন। সেখানে এমপি ও ওই তরুণী আসার পর তিনি ডিভাইসটি সংগ্রহ করেন এবং পরে কিছু লোক সেখানে উপস্থিত হয়ে টাকা দাবি করে। ওবায়দুর দাবি করেন, তিনি ভাগনির সাথে এমপির অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করেছিলেন। এর জের ধরে গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

ওবায়দুরের আরও দাবি, গত ২০ জুন এমপি হোস্টেলে তিনি গাজী নজরুলকে সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এমপি তাকে ‘মুতআ বিয়ে’র ফতোয়া দিয়ে সম্পর্কটি বৈধ করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি মুখ বন্ধ রাখতে তাকে একটি গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব এবং এপিএস-২ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, ভিডিও প্রকাশের পর তরুণী মরিয়ম খাতুন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তরুণী দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে এবং ১৩ জুলাই মগবাজারে তার বাবার অফিসে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলামও অভিযোগ করেছেন যে, ওবায়দুর রহমান তাকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং ভিডিও ফাঁসের পেছনে তিনিই জড়িত।