ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি, সাদেকা হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশিত: 4:08 PM, July 31, 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিন্ডিকেটের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী একটি তদন্ত কমিটির দেওয়া স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে, যেখানে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। ড. সাদেকা হালিম ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একই সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরও পাঁচজন অধ্যাপককে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই পাঁচজন হলেন ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার এবং নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী। এছাড়া একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অব্যাহতি পাওয়া এই অধ্যাপকদের মধ্যে পাঁচজন আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রীক অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পেছনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছাড়াও নানাবিধ অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া অধ্যাপকদের কেউই এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কথা বলতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান রয়েছেন। এছাড়াও বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য আরেকটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক হয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। সিন্ডিকেট সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে, অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফা পিইঞ্জকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।