হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা, ‘কাচ বন্ধ না থাকলে মাথা ফেটে যেত’ প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এই ঘটনায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন বলে দাবি করেছেন। হামলার তীব্রতা বর্ণনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যেত। আমি মারাও যেতে পারতাম। জীবনে কখনো এমন হামলার মুখে পড়িনি।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর সুরক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তারা শুধু বিজেপিকে সুরক্ষা দেয়। তাঁর সামনেই বহিরাগত অসামাজিক ব্যক্তিরা তাঁর গাড়িতে পাথর ছুড়েছে বলে তিনি জানান। জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে এক দলীয় কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হালিশহরে যাওয়ার পথে তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে এবং গাড়ির কাচে কাদা ছিটিয়ে দেয়। এ সময় গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলের পাশাপাশি জুতো ও পানির বোতলও ছুড়ে মারা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভার সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। কল্যাণ ব্যানার্জি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশকে ব্যবহার করে (মুখ্যমন্ত্রী) শুভেন্দু অধিকারী কলকাঠি নাড়ছেন। অন্যদিকে, রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, এই সহিংসতার সঙ্গে তাঁদের দলের কেউ জড়িত নয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় গিয়েছিলেন। চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিরজু কেওটকে গত শুক্রবার আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছিলেন। এরপর পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। জেনি শর্মার অভিযোগ, তাঁর স্বামীকে কারাগারে নির্যাতন চালিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এফআইআরে নাম না থাকার পরও পুলিশ কেওটকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। হেফাজতে নেওয়ার পর একজন মানুষ যখন আর জীবিত ফিরে আসেন না, তখন সেটি সরাসরি আইনের শাসনের ওপর প্রশ্ন তোলে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় মমতার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটল। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: তৃণমূল কংগ্রেসপশ্চিমবঙ্গবিজেপিমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়হামলাহালিশহর