দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন: নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার ডাক দিলেন নেতারা

প্রকাশিত: ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে এই সম্মেলনে অংশ নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর নেতাদের প্রচলিত নিয়মের অনুসারী না হয়ে বরং নতুন নিয়ম সৃষ্টিকারী হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত বিরোধ এবং ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলো ব্রিকসকে পশ্চিমা প্রভাব হ্রাসের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করলেও, ভারত একে সরাসরি 'পশ্চিমবিরোধী' জোট হিসেবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী নয়। এর পরিবর্তে, ভারত পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই জোটের সদস্যদের মধ্যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে।

পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রপ্রধানদের এক টেবিলে বসাতে পারা ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য। দীর্ঘ সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং সীমান্ত উত্তেজনার আবহে দুই নেতার ইতিবাচক আলোচনা ও করমর্দন এবারের সম্মেলনের একটি বিশেষ দিক।

সম্মেলনের প্রথম দিনে গৃহীত 'নয়াদিল্লি ঘোষণা'-তে সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার তীব্র মতপার্থক্যগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘোষণাপত্রে ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও একতরফা শুল্ক নীতির সমালোচনা করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম সরাসরি নেওয়া হয়নি।

তবে মূল সম্মেলনের বাইরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি বৈঠক এই বৈরী ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে, পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ার তাগিদ ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে প্রবল থাকলেও, এর বাস্তব রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা এখন জোটটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।