মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দিতে চীনের নেটওয়ার্কে ভারতের নাম প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬ মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে চীন বিভিন্ন দেশকে ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’ বা ছায়া নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ৪০টির বেশি দেশ এই কৌশলের সাথে যুক্ত, যার মধ্যে ভারতের নামও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের কিছু বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে ৩০১ ধারার আওতায় শুল্ক আরোপ করে। এরপর থেকেই অন্য দেশের মাধ্যমে ঘুরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবছর তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এমন পণ্যের মূল্য ৪০ বিলিয়ন থেকে ৩০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই কৌশলে চীনা পণ্য প্রথমে অন্য কোনো দেশে পাঠানো হয়। সেখানে পণ্যটি সামান্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নতুন লেবেল লাগানো, পুনরায় প্যাকেটজাত করা, নতুন চালানপত্র তৈরি করা কিংবা পরিবহনের রুট পরিবর্তনের মতো কাজ করা হয়। এতে পণ্যটি অন্য দেশের বলে মনে হলেও এর মূল উপাদান ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার বড় অংশই চীনের থাকে। চীন মূলত কম শ্রম ব্যয়, দুর্বল শুল্ক তদারকি অথবা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের সুবিধা থাকা দেশগুলোকে এই কাজে ব্যবহার করছে। প্রতিবেদনে ভারতের পুনে-গুজরাট-চেন্নাই উৎপাদন অঞ্চলকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি পাম্প ও কম্প্রেসর উৎপাদন বা সরবরাহের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটি, ডেটন ও কলম্বাসের সরবরাহব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই তালিকায় মেক্সিকো, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় বাণিজ্যিক সহযোগী দেশগুলোও রয়েছে। এই অন্যায্য বাণিজ্য ঠেকাতে মার্কিন কর্মকর্তারা ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্যের চালানের নথি, পরিবহন রুটের ইতিহাস, পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, মালিকানাসংক্রান্ত যোগসূত্র এবং উৎপাদন সক্ষমতার তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বৈধ পণ্যের সাথে অবৈধভাবে পাচার করা পণ্যের পার্থক্য নির্ণয় করে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনকে সহায়তা করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ চালান শনাক্ত করে শুল্ক আদায়, জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর পর থেকে অন্য দেশের মাধ্যমে ঘুরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যায়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর তৃতীয় দেশ ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো পণ্যের মূল্য ৪ হাজার কোটি থেকে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে।.নাভারো যেটিকে চীনের ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন, সেই তালিকায় য এতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটি, ডেটন ও কলম্বাসের সরবরাহব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।.চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় চিপ তৈরির উপকরণে ১৫% শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের.ওয়াশিংটন ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচীনবাণিজ্যভারতযুক্তরাষ্ট্রশুল্ক