রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: পরাজয় জেনেও জামায়াত জোটের প্রার্থী দেওয়ার কারণ প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬ নির্বাচন কমিশনে একাধিক মনোনয়ন জমা হওয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের পথে হাঁটছে দেশ। তবে এই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই যে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিশ্চিত। এছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতেই তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন না হওয়ার পক্ষেই তারা। এ সময় তিনি ৭০ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, সংসদ সদস্যরা অনাস্থা এবং অর্থবিল ছাড়া স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন না, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পথে প্রতিবন্ধকতা। এছাড়া তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেরও সমালোচনা করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জামায়াত জোটের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়, বরং সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে। এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম জানান। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ১৬ আগস্ট বাছাই ও ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ১৯৯১ সালের পর এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত জোটের এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে। অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, জামায়াত জানে তারা জিতবে না, তবে একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী করে তারা সাধারণ মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল, যার অভাব এই প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান। তিনি মনে করেন, বিএনপি যদি আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী দিত, তবে জামায়াত হয়তো প্রার্থী দিত না। সব মিলিয়ে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত নিজেদের সরকারবিরোধী অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দরকষাকষির জায়গাটিও তৈরি রাখছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এরপর থেকে গত ৩৫ বছরে যে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, তার প্রতিবারই একক প্রার্থী থাকায় কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপির মোট সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২৪৭। অর্থাৎ সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। SHARES জাতীয় বিষয়: অলি আহমদজামায়াতে ইসলামীবিএনপিরাজনীতিরাষ্ট্রপতি নির্বাচনলিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি