সৌদি আরবের নিরাপত্তায় শর্তহীন পাশে থাকার ঘোষণা পাকিস্তানের

প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

যেকোনো পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রিয়াদের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের এই অঙ্গীকার ‘শর্তহীন’ এবং কূটনৈতিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই পাকিস্তান পুরোপুরি সৌদি আরবের পাশে রয়েছে।

ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়া সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের এই সামরিক কর্মকর্তা মন্তব্যটি করলেন। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর নতুন করে হুমকি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইফের আকাশে একটি ড্রোন বাধা দেয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসকারী এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর হুতিদের ধারাবাহিক হামলায় এটিই রিয়াদের ঘোষিত প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

আইএসপিআর মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের মধ্যে মক্কা ও মদিনার সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, হারামাইন শরিফাইন রক্ষায় আমরা সেখানে উপস্থিত আছি এবং এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সৌদি আরবকে রক্ষা করে যাবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে’ স্বাক্ষর করেছে, যা মক্কা চুক্তি হিসেবে পরিচিত। এই চুক্তির আওতায় এক দেশের বিরুদ্ধে অন্য কোনো দেশ আক্রমণ চালালে তা জোটের সব দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।