কলকাতায় নিউমার্কেটের পাশে হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯

প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেটের পাশে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

ভৌগোলিক দিক থেকে মির্জা গালিব স্ট্রিট একেবারে কলকাতা নিউমার্কেটের পাশেই অবস্থিত। নিউমার্কেটের পেছনের অংশ এবং এর আশেপাশের বেশ কিছু প্রধান গলি সরাসরি মির্জা গালিব স্ট্রিটের (সাবেক ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, hotelটির চারতলায় প্রথম আগুন লাগে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে হোটেলের একটি অংশ পুরোপুরি পুড়ে যায় এবং ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা না গেলেও শুধু কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছিল। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হোটেলের ভেতর থেকে বহু মানুষ হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন, যাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হোটেলে আটকে থাকা অবস্থাতেই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার চেয়ে শ্বাসরোধ হয়েই তাদের বেশি মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।