বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন- “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ১০৭)। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তার জীবন ও আদর্শ বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার চরিত্রে উত্তম।” আর মহান আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর অনুপম চরিত্রের প্রশংসা করে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী (সুরা আল-আহজাব, আয়াত ২১)।” সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও মানবিকতার অনন্য সমন্বয় ছিল তার চরিত্রে। তিনি দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বে উগ্রতা, হিংসা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি উপস্থিত আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের পথপ্রদর্শক। সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ দূর করতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি তাদের আহ্বান জানান। তিনি ৪টি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেন।

দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহানবী (সা.) অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনের শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অনুসরণীয়। তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা ও মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন, এবং পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা এবং ২০০১ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন। বর্তমান সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানি ভাতা প্রদান করছে এবং ২০৩০ সালের আগে দেশের সকল মসজিদ ও উপাসনালয়কে এই সুবিধার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী জী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, রাষ্ট্রপতি পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।