ব্রিকস সম্মেলনে ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত সফরে শি জিনপিং

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

আগামী মাসে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে যোগ দিতে পারেন। তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই সফরটি নিশ্চিত হলে তা সাত বছর পর ভারতে শির প্রথম সফর হবে এবং দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত দেবে।

ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চলমান প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে শির এই উপস্থিতি সম্মেলনের মূল কর্মসূচির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে নতুন বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাগযুদ্ধও হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আসতে পারে। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরের সময় চীনা প্রতিনিধিদলে ২০০ জনের কম কর্মকর্তা ছিলেন। সম্মেলনের ফাঁকে দুই দেশের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য বজায় রেখেই পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর উপায় খুঁজতে পারেন।

তবে শির চূড়ান্ত সফরসূচি এবং ভারত-চীন সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারতকে সমর্থন করে। তবে শি জিনপিংয়ের সফর সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও শি অংশ নেননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন, যেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসবেন। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনে শির উপস্থিতি এমন বার্তা দিতে পারে যে, ভারত ও চীন বাইরের চাপের কারণে ব্রিকসের সহযোগিতাকে দুর্বল হতে দিতে চায় না। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে শির এই সফর নিশ্চিত হলে তা ভারত-চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা বহন করবে।