ঘিওর খাদ্যগুদামে চাল-গমের বিশাল ঘাটতি, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে (এলএসডি) বড় ধরনের খাদ্যশস্যের ঘাটতি মেলায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং ওই গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমার। গুদামে মজুত যাচাই করে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পাওয়ার পর খাদ্য অধিদপ্তর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে ওই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থে তাদের চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২ নম্বর বিধি অনুযায়ী তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের গত ২৫ আগস্টের একটি স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘিওর এলএসডিতে সরেজমিন পরিদর্শনে যায়। তদন্ত দল গুদামের হিসাবের খাতার সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখার সময় এই জালিয়াতি ও গরমিল উদঘাটন করে। সেখানে সরকারি হিসাবের চেয়ে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া যায়। তবে এর বিপরীতে গুদামে ৪১ টন ধান অতিরিক্ত পাওয়া গেছে। এছাড়া গুদামে থাকা খালি বস্তার হিসাবেও বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যেখানে ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তার ঘাটতি ছিল। মজুতের এই বড় ধরনের গরমিলের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে জেলাগুলোর খাদ্যগুদামগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদামে গিয়ে মজুত খাদ্যশস্য, দাপ্তরিক নথিপত্র ও হিসাব যাচাই করে। এর আগে গত বুধবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এবং জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন। তারা গুদামের খাতাপত্রের হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুত খতিয়ে দেখেন এবং এরপর গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।