মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা প্রকাশিত: ১২:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে বিভক্তির জেরে দলের নাম ও প্রতীকে বড় পরিবর্তন এসেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করেছে। এখন থেকে মমতার দলের নাম হবে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং দলীয় প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে, বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের দলীয় প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ‘খাম’। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে ২৮ বছর ধরে দলটি ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করে আসছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের ভেতর ভাঙন সৃষ্টি হয় এবং প্রবীণ নেতাদের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগ দেন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের মধ্যে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন মূল ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি ফ্রিজ করে দেয়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্ট করতেই এমন অসাংবিধানিক ও বেআইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি কালেক্টিভ বা সম্মিলিত নেতৃত্ব, যেখানে কোনো ব্যক্তির নাম থাকবে না। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে বলেছেন, দল ধরে রাখতে না পারার দায় সম্পূর্ণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনে দুই দলই তাদের নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রামে তাদের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিজেপিবিরোধী ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার অংশ বলে জানিয়েছেন দলপ্রধান। রেজিনগর আসন নিয়েও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। SHARES অন্যান্য বিষয়: তৃণমূল কংগ্রেসনির্বাচন কমিশনপশ্চিমবঙ্গমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রাজনৈতিক দল